গনেশ পাগল ও তাঁর সেবাশ্রম

গনেশ পাগল (গোপালগঞ্জ জেলা, কোটালীপাড়া থানার পোলসাইর গ্রামে জন্মগ্রহণকারী) ছিলেন একজন সম্মানিত সাধু, যিনি শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের আদর্শ অনুসরণ করে মানব সেবা ও ধর্মচর্চার মাধ্যমে ধর্মীয় শিক্ষা ছড়িয়ে দেন
তিনি ১৩৩৫ বঙ্গাব্দে মহাপ্রয়াণ করেন। পরবর্তীকালে তার অনুসারীরা ১৩১২ বঙ্গাব্দে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ি দিঘীরপাড় এলাকায় প্রায় ৩৬৫ বিঘা জমিতে গনেশ পাগল সেবাশ্রম গড়ে তোলেন


আশ্রম ও ধর্মীয় কর্মসূচি

এই সেবাশ্রমে এখন রয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ ঠাকুরবাড়ি ও মন্দির প্রাঙ্গণ, যেখানে রয়েছে রাধা–গোবিন্দ, শিব, কালী, মনসা মতো একাধিক মন্দির। এছাড়া আছে নামযজ্ঞ মঞ্চ, সাধন কক্ষ ও ভক্তদের থাকার সুব্যবস্থা এই প্রাঙ্গণে ভক্তরা নিয়মিত হরিনাম সংকীর্তন, কীর্তন ও সাধনার আয়োজন করেন।

গনেশ পাগল কুম্ভমেলা – আধ্যাত্মিক উৎসব

জ্যৈষ্ঠ মাসের ১৩ তারিখে এক দিনের কুম্ভমেলা আয়োজন করা হয়, যা পরে তিন‑দিন ব্যাপী হয়ে দাঁড়ায়। এটি দেশের বৃহত্তম ধর্মীয় কুম্ভমেলা গুলোতে গণ্য হয়, যেখানে ভক্তেরা বিপুল সংখ্যায় অংশগ্রহণ করেন। দিনে দিনে এই মেলার গুরুত্ব ও আয়তন বেড়ে চলেছে—ভারত সহ অন্যান্য দেশ থেকেও ভক্তরা মেলায় আসেন

লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে, যারা বিশ্বাস করেন—এই মন্দির ও সাধকের পদধুলোতে পা রাখলে সকল বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

সাধনাশৈলী ও দর্শন

গনেশ পাগল ছিলেন এক নিবেদিত হরিনাম ভক্ত। তাঁর মূল শিক্ষাবলি ছিল—

  • মানুষের মধ্যে সাম্য, ভক্তি ও সেবার চেতনাকে জাগানো
  • ধর্ম ও নামস্মরণের মাধ্যমে মানুষের আত্মশুদ্ধি অর্জন করা
তার অনুসারীরা আজও হরিনাম সংকীর্তন, নামযজ্ঞ ও সমাজসেবায় নিয়োজিত থাকেন।

ভ্রমণ ও গন্তব্য নির্দেশনা

অবস্থান: কদমবাড়ি, রাজৈর উপজেলা, মাদারীপুর জেলা, গোপালগঞ্জ সদর থেকে সংযুক্ত।
যাতায়াত:
  • ঢাকা থেকে সরাসরি বাস করে মাদারীপুর, সেখানে থেকে অটো বা স্থানীয় পরিবহনে কদমবাড়ি যেতে হয়।
  • মাদারীপুর–রাজৈর–কদমবাড়ি রুট হয়ে যেতে হয়
শ্রী শ্রী গনেশ পাগল ছিলেন একজন সাধু-সন্ত, যিনি ধর্ম ও মানবতার সেবা দিয়ে আজও মানুষের হৃদয়ে অনুপ্রেরণা জাগান। তাঁর সেবাশ্রম কেবল একটি ধর্মীয় স্থান নয়, বরং নিজের শক্তি ও বিশ্বাস দিয়ে সমাজকে আলোকিত করার একটি অগ্রণী কেন্দ্র। যারা সত্যিকারের শান্তি, ভক্তি ও মানবিকতা অনুসন্ধান করেন—তারা এই আশ্রমে অবশ্যই ভ্রমণ করবেন।