পর্ব ৩৮: কৃষ্ণের মহাপ্রস্থান – বনবাস ও বাণবিদ্ধ পরিণতি
দ্বারকার অন্তর্ধানের পর
শ্রীকৃষ্ণ নিজেকে মানবজীবনের শেষ পর্বে প্রবেশ করালেন—
বনবাস, নির্জনতা ও প্রস্থানের পথে।
এই সময়টা ছিল আধ্যাত্মিক, গম্ভীর ও প্রতীকধর্মী।
তিনি জানতেন—
যেখানে অবতার এসেছেন, সেখানেই এক সময় লীলা শেষ করতে হয়।
বনবাসের সিদ্ধান্ত
যাদব বংশের পতন, দ্বারকার অন্তর্ধান এবং ধর্মক্ষয়ের সূচনার পর
শ্রীকৃষ্ণ মহাভারতের প্রতিশ্রুতি অনুসারে প্রস্থান গ্রহণ করেন।
তিনি বালরামকে নিয়ে বনের দিকে পা বাড়ালেন।
এক নির্জন স্থানে তারা দুজনেই ধ্যান ও তপস্যায় লিপ্ত হন।
বলরামের সমাধি
বলরাম, যিনি শঙ্করদেবের অবতার বলে মানা হয়,
এক নির্জন স্থানে যোগমগ্ন হয়ে দেহত্যাগ করেন।
তাঁর শরীর থেকে এক সাদা সাপ বের হয়ে সমুদ্রের দিকে চলে যায়—
প্রতীক ছিল তা আদিশেষ-এর ফিরে যাওয়ার।
শিকারির বাণ ও কৃষ্ণ
এক নির্জন দিনে কৃষ্ণ একটি বৃক্ষতলায় বসে ধ্যানমগ্ন ছিলেন।
ঠিক সেই সময় জরা নামক এক শিকারি তাঁকে লক্ষ্য করে।
সে কৃষ্ণের পদ্ম-পদ দুটোকে হরিণের চোখ ভেবে
একটি বিষাক্ত বাণ ছুড়ে দেয়।
বাণ কৃষ্ণের পায়ে বিদ্ধ হয়।
তখনই কৃষ্ণ চোখ মেলে বলেন—
“জরা, ভয় পেয়ো না।
তুমি শুধু আমার ইচ্ছার মাধ্যম।
এই দেহ রেখে আমি ফিরে যাচ্ছি আমার শাশ্বত ধামে।”
কৃষ্ণের দেহত্যাগ নয়, লীলা সমাপন
কৃষ্ণ কখনোই সাধারণভাবে জন্মগ্রহণ বা মৃত্যুবরণ করেননি।
তাঁর মৃত্যু ছিল একটা লীলার সমাপ্তি।
তিনি নিজের ইচ্ছায়—
- ভক্তদের মুক্তি দিয়েছেন
- ধর্ম প্রতিষ্ঠা করেছেন
- যাদব বংশ ও কৌরবদের অহংকার বিনাশ করেছেন
- তারপর ধীরে ধীরে দৃশ্যপট থেকে অন্তর্ধান করেন
কৃষ্ণ কোথায় গেলেন?
পুরাণ অনুসারে, কৃষ্ণ তাঁর সরূপে ফিরে যান
গোলোক ধামে – যেখানে ভক্তির চরম প্রকাশ ঘটে।
এখানে মৃত্যু বলতে কিছু নেই,
শুধু সময়োচিত প্রস্থান।
“যেখানে ধর্ম রক্ষা হয় না,
সেখান থেকে ঈশ্বরও সরে যান।” – গীতা
পরবর্তী পর্ব দেখতে এখানে ক্লিক করুন


0 Comments