পর্ব ২: শ্রীকৃষ্ণের জন্ম ও কারাগার থেকে গোকুলে আগমন
জন্মের অলৌকিকতা:
দেবকী ও বাসুদেব তখন মথুরার কারাগারে বন্দি। কংসের ভয়ে তাঁদের আগের সাতটি সন্তানকে হত্যা করা হয়েছিল। তখন দেবকী ছিলেন অষ্টম সন্তানের গর্ভবতী। সেই সন্তানই ছিল স্বয়ং ভগবান বিষ্ণুর অবতার—শ্রীকৃষ্ণ।
ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে, মধ্যরাত্রির নিঃস্তব্ধতায় কৃষ্ণ জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর আবির্ভাবের সাথে সাথে এক অলৌকিক পরিবর্তন দেখা যায়—কারাগারের দরজাগুলি খুলে যায়, পাহারাদাররা ঘুমিয়ে পড়ে, আর শৃঙ্খল খুলে যায় আপনাআপনি।
বাসুদেব তখন একটি বাস্কেট-এ কৃষ্ণকে রেখে নির্ভয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে পড়েন। সেই সময় প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল, যমুনা নদী ছিল উত্তাল। কিন্তু সেই নদী নিজে ভাগ খুলে পথ করে দেয় কৃষ্ণের জন্য। শेषনাগ বাসুদেবের মাথার উপর ছাতা করে থাকেন, যেন এক রাজকীয় যাত্রা চলছে।
গোকুলে আগমন:
বাসুদেব কৃষ্ণকে নিয়ে গিয়ে পৌঁছান গোকুলে, যেখানে নন্দ ও যশোদার কোল আলো করে তখন জন্ম নিয়েছিল একটি কন্যাসন্তান—মায়া। কৃষ্ণকে রেখে তিনি সেই কন্যাসন্তানকে নিয়ে ফিরে আসেন কারাগারে।
পরদিন সকালে কংস জানতে পারেন, দেবকীর সন্তান একটি কন্যা! সে ভাবল, ভবিষ্যদ্বাণী মিথ্যে প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু যখন সে সেই শিশুকে হত্যা করতে যায়, তখন কন্যা আকাশে উঠে যায় এবং বলে—"হে কংস! তোর হত্যাকারী তো জন্ম নিয়ে ফেলেছে অন্য কোথাও।"
এইভাবেই কৃষ্ণের জন্ম ও স্থানান্তর ছিল সম্পূর্ণভাবে অলৌকিক ও ঈশ্বরীয় পরিকল্পনার অংশ। গোকুলবাসীরা জানত না এই শিশুই একদিন রক্ষা করবে ধর্ম ও মানবতা।
ধর্মীয় তাৎপর্য:
এই কাহিনির মূল শিক্ষা হলো—ঈশ্বর যখন আসেন, তখন সমস্ত প্রাকৃতিক নিয়ম মুছে যায়। তিনি তাঁর ভক্তদের রক্ষা করতে পারেন যে কোনো উপায়ে। কৃষ্ণের জন্মরাত্রি ছিল সেই মুহূর্ত যখন আশাহীনতার মধ্যে আশার আলো জ্বলে ওঠে।
পরবর্তী পর্বে আমরা জানব- পুতনা বধ কৃষ্ণের প্রথম অসুরবিনাশ
পরবর্তী পর্ব দেখতে এখানে ক্লিক করুন-জয় শ্রী কৃষ্ণ


0 Comments