পর্ব ৩: পুতনা বধ কৃষ্ণের প্রথম অসুরবিনাশ
পুতনা কে ছিলেন?
পুতনা ছিলেন এক রাক্ষসী, যাকে কংস প্রেরণ করেছিল কৃষ্ণকে হত্যা করার জন্য। কংস জানত, কৃষ্ণই তার মৃত্যুর কারণ হবে। তাই সে একে একে বিভিন্ন অসুর পাঠাতে থাকে কৃষ্ণকে মেরে ফেলার জন্য। পুতনা ছিল তাদের প্রথম।
সে এক বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন রাক্ষসী ছিল, যে রূপ বদলাতে পারত। সে এক সুন্দরী রমণীর রূপ ধারণ করে গোকুলে প্রবেশ করে, এবং এমনভাবে আচরণ করতে থাকে যেন সে একটি সাধারণ মাতৃসদৃশ নারী।
বিষাক্ত স্তন ও হত্যার পরিকল্পনা
পুতনা নিজের স্তনে মারাত্মক বিষ মেখে রাখে এবং গোপাল কৃষ্ণকে দুধ খাওয়ানোর অজুহাতে কোলে তুলে নেয়। যশোদা ও নন্দ তখন উপস্থিত ছিলেন না, আর গৃহস্থালির অন্যরা তাকে চিনত না। শিশুকে কোলে নিয়ে সে স্তন দান করতেই, শ্রীকৃষ্ণ যেন বুঝে ফেলেন তার অন্তরের উদ্দেশ্য।
তিনি স্তন পান শুরু করেন, কিন্তু দুধ নয়, তিনি যেন তার প্রাণ শুষে নিতে থাকেন। পুতনা ব্যথায় আর্তনাদ করতে করতে তার আসল রূপে ফিরে আসে — বিশালাকার রাক্ষসীর রূপে।
সে ছটফট করতে করতে গোকুলবাসীদের আতঙ্কিত করে তোলে। কিন্তু কৃষ্ণ তখনো তাঁর বুকে স্থির, অবিচলিত। অবশেষে পুতনা মৃত্যুবরণ করে। তার দৈত্যাকৃতি দেহ গোকুলের একটি বনভূমিতে লুটিয়ে পড়ে।
আধ্যাত্মিক তাৎপর্য
যদিও পুতনা একটি ভয়ংকর রাক্ষসী ছিল, কৃষ্ণ তাঁকে মাতৃরূপে গ্রহণ করেন। তিনি শুধু শত্রু নাশ করেননি, তাঁকে মুক্তিও দেন। এই কাহিনিতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা আছে—
- ভক্তি ও উদ্দেশ্য: যে কেউ ভগবানের দিকে এগিয়ে আসলে যদি সে কুপথে আসে—তবুও ভগবান তাকে উপশম করেন। পুতনা শিশুকে হত্যা করতে চেয়েছিল, কিন্তু মাতৃরূপে দুধ দিতে এসেছিল। কৃষ্ণ সেই উদ্দেশ্যকে গ্রহণ করে তাকে মুক্তি দিলেন।
- ভক্তদের রক্ষা: কৃষ্ণ বারবার প্রমাণ করেন যে, তিনি ভক্তদের রক্ষা করতে সদা প্রস্তুত। এই লীলায় তিনি গোকুলবাসী ও নিজের রক্ষার দায়িত্ব নিজেই নেন, শুধুমাত্র শিশুরূপে থেকেও।
গোকুলের প্রতিক্রিয়া
পুতনার মৃত্যুর পরে গোকুলে হুলস্থুল পড়ে যায়। যশোদা ও নন্দবাবা দৌড়ে আসেন এবং কৃষ্ণকে কোলে নিয়ে কপালে কালো টিপ, লবণ ছিটানো ইত্যাদি শুরু করেন—যেন কুদৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা পান। তাঁরা বুঝতে পারেন, এই শিশু সাধারণ কেউ নয়।
পরবর্তী পর্বে আমরা জানব-শকটাসুর ও ত্রিনাভর্ত বধ – কৃষ্ণের শৈশবের দুই ভয়ঙ্কর লীলা
পরবর্তী পর্ব দেখতে এখানে ক্লিক করুন-জয় শ্রী কৃষ্ণ


0 Comments