আবির্ভাব লীলা
জয় জয় রাইচাঁদ রসময় সিন্ধু, পতীতে করুণা কর দিয়া এক বিন্দু।
জয় জয় রসরাজ ভক্তগণ প্রাণ, ভজ ভজ মন তাঁরে দিয়া কুলমান।
কলিঘোর অন্ধকারে দিলা তুমি আলো, আবির্ভাবে পাপ-তাপ দূরে সরে গেল।
অযোনী সম্ভব প্রভু অগতির গতি, জীবের লাগিয়া ধর জীবের প্রকৃতি।
ধন্য ধন্য ধন্য কলি জয় জয় রাই, ব্রজের কানাই তুমি নদের নিমাই।
জয় জয় রাই ভক্ত জানাই প্রণতি, যাঁদের আশিসে হবে রাই পদে মতি।
অযোগ্য নিজেরে ঘোষি জুড়ি দু'টি হাত, দন্তে তৃণ ধরি করি তাঁরে প্রণিপাত।
যেখানেতে যত আছে সাধু ভক্তগণ, অবনত শিরে করি তাঁদের বন্দন।
নারায়ণে নমস্কার আর নরোত্তমে, আর বন্দি বাণী দেবী জয়ের পঞ্চমে।
যুগে যুগে লীলা তব আছে অগণন, কিঞ্চিৎ জানে জীব শাস্ত্রের বর্ণন।
গভীর রহস্যে ঘেরা রহস্যের মূল, ভক্তজন জানে মাত্র যাঁর ভাঙ্গে ভুল।
কে তাঁরে জানিতে পারে যদি না জানায়, এই কথা ফুকারিয়া সর্বশাস্ত্রে কয়।
রাই রসরাজ লীলা অদ্ভুত বাখান, গ্রন্থরূপে স্বল্পমাত্র হইল আখ্যান।
গোলক বিহারী হরি হয়ে অবতার, রাইরূপে উদ্ধারিল জগৎ সংসার।
অদ্যাবধি সেইরূপে হয় তাঁর লীলা, ভাগ্যবান ভক্তে হেরে অহরহ খেলা।
তর্ক আর বিচারের প্রয়োজন নাই, যে যার ভাবে ভজুক জগৎ গোসাঁই।
কোন অবতার শ্রেষ্ঠ কোন নাম সেরা, প্রমাণ দিয়াছে রাই হয়ে মন চোরা।
শাস্ত্রের বচন মানি বলিছি নির্ভয়ে, সদা পূর্ণব্রহ্ম তিনি ভক্তের হৃদয়ে।
অতি হীন দীন হয়ে সাধ্য কি আমার? বিজ্ঞজনে বুঝাইব মহিমা তাঁহার।
বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদূর, সন্তমুখে শোনা বাণী আধার মধুর।
কোন ব্রহ্মার ব্রহ্মাণ্ডে কোন সে যুগেতে, কোনরূপে প্রকাশিলা জীব উদ্ধারিতে।
সে সব আলাপ গণি একান্তই বাহ্য, ভাব হলে লাভ হয় একমাত্র গুহ্য।
জয় জয় রাইচাঁদ সঁপি মন প্রাণ, শোন তাঁর আবির্ভাব অমৃত আখ্যান।
যাহার শ্রবণে হয় সর্বানর্থ নাশ, স্মরণে কলুষ দূর প্রেমের নিবাস।
অনন্য চিন্তনে সবে কর অবধান, রাই নামে কত শক্তি আছে বর্তমান।
শাস্ত্রে শুনি হরিনামে সর্ব পাপ ক্ষয়,
শ্রবণে কীর্তনে কিম্বা জপিলেও হয়। একবার রাম নামে যত পাপ হরে,
পাপীর কি সাধ্য আছে তত পাপ করে? হরি রাম কৃষ্ণ হয় ঈশ্বরের নাম
নাম ভেদে গুণ ভিন্ন রকমারী দাম।
জপিলে সহস্রবার যাহা হয় রামে, ১৪ একবারে সেই শক্তি ধরে কৃষ্ণ নামে। মিছামিছি কথা নয় শাস্ত্রের প্রমাণ,
বিচারি দেখহ সবে যাহারা ধীমান।
প্রেম পুরুষ উত্তম যিনি গৌরহরি, যাঁর নাম নিলে যাবে ভব ভয় তরি।
তাঁহার মহান উক্তি কর অবধান, পরবর্তী আজ্ঞা মোর অতি বলবান।
সেই হরি রাম কৃষ্ণ রাইরূপে আসি, মাতাইল-তরাইল শুধু ভালবাসি।
যুগে যুগে পুঞ্জীভূত যত পাপরাশি, চকিতে আসিয়া প্রভু সব গেল নাশি।
ক্রমে ক্রমে গ্রন্থ মধ্যে দেখিবে সবায়, আপনি আচরি ধর্ম কেমনে শিখায়।
কলিহত জীবগণ অতীব দুর্বল, প্রাগুক্ত বৈদিক ক্রিয়া সকলি অচল।
সেইহেতু ধ্যানযোগে বলেছেন ব্যাস, 'কলিকালে নামে হবে কুম্ভকাদি ন্যাস।'
শোন শোন ভক্তিভাবে সত্য শাস্ত্রবাণী, শুভপ্রদ সেই নাম যা' চায় পরাণী।
ভক্ত শ্রেষ্ঠরূপে যাঁর ভুবনে প্রকাশ, রাই ভিন্ন অন্য নামে নাহি তা' প্রকাশ।
রাইলীলা প্রয়োজনে আছে পূর্বাভাস, যাহার শ্রবণে বাড়ে ভাবের উল্লাস।
দ্বাপরে শ্রীবৃন্দাবনে যশোদা জীবন, কলিকালে অবতীর্ণ করিলা মনন।
অদ্বৈত হুঙ্কারে তাই করে আগমন, রাধাকৃষ্ণ দুই মিলে শ্রীশচীনন্দন।
পুরীধামে মহাপ্রভু অন্তর্ধান হলে, জগন্নাথ মূরতি মাঝে মিশিয়া গেলে।
বদন মাঝে প্রভুর বসন দেখিয়া, ভক্তেরা বুঝিল তিনি ফেলেছে গিলিয়া।
নিরখি প্রভুর বাস মুখের ভিতর, প্রত্যক্ষে বুঝিয়া নিল ভক্ত পরস্পর।
অনুমানে জগন্নাথ করে আত্মসাৎ, লীলাময় লীলা কেবা বুঝে অকস্মাৎ।
সকলেই ক্রোধান্বিত দারুব্রহ্ম পরে, তাহা বুঝে পুরীদের বলে ধীরে ধীরে।
"শোন শোন ভক্তগণ বলি তোমাদের, ঈশ্বরে গৌরাঙ্গের আর অভেদ মোদের।"
যখন যেমতি ইচ্ছা মনে মোর লয়, তখন তেমতি করি আমি লীলাময়।
কতবার অবতরি কত প্রয়োজনে, না জানালে জানিবে কে নিষ্ঠভক্ত বিনে?
তে'কারণে শুন সবে ভবিষ্য কথন, তোমরা আমার প্রিয় গৌর ভক্তগণ।
এরপর অবতার কোথা কোথা হ'ব, কোন ছলে লীলা করি জীব উদ্ধারিব।
এইরূপ লীলা আমি করি দুইবার, কলির কল্মষ নাশ করিব এবার।
ঈশান কোনে আমি অবতীর্ণ হইয়া, চৈতন্য করিব জীবে হরিনাম দিয়া।
সেই লীলা হ'ল আসি ওড়াকান্দি গাঁয়, পূর্ণব্রহ্ম হরি বলে যাঁরে চেনা যায়।
তৎপর অবতার ধাম বাশুড়িয়া, যেথা হতে প্রভু ফেরে কাঁদিয়া কাঁদিয়া।
রাইচাঁদ নাম নিয়া হরিনাম দেয়, না চাহিলে প্রেম যাচে যেইভাবে নেয়।
তাঁর আবির্ভাব শোন হয়ে অতি ধীর, যাহা হতে হবে সবে সুন্দর সুস্থির।
রাইচাঁদ জন্মদাতা চুবন বিশ্বাস, যাঁহে হরিচাঁদ করে করুণা প্রকাশ।
শ্রীঘাগরী মাতৃনাম ভক্তিযুক্তা নারী, যাঁর কোলে স্তন্য পিয়ে পারের কাণ্ডারী।
স্বামী পত্নী দুইজনে ওড়াকান্দি যায়, হরিচাঁদ গুণ তাঁরা রাত্রি দিন গায়।
হরিচাঁদ ভক্ত ছিল গৌরাঙ্গেরগণ, সময়েতে সবে এসে দিল দরশন।
হরিচাঁদ অন্তরঙ্গ ভক্ত মহানন্দ, পাগল বলিয়া খ্যাত প্রেমে সদানন্দ।
নারিকেল বাড়ি বাটি নাহি ছিল গোল, দিবানিশি মুখে সদা 'হরি হরি' বোল।
রাইচাঁদ পিতামাতা সদা জপে নাম, সাধক-সাধিকা তাঁরা বড় গুণধাম।
পাগলে বাসিত ভাল দম্পতি সতত, আশা পথ পানে সদা চাহিয়া থাকিত।
অত্যন্ত গরীব ছিল তাহে ক্ষতি নাই, নামে মত্ত হয়ে ভুলে মায়ারোশ নাই।
হয়তো এমন হতো চাউল বাড়ন্ত, চেয়ে চিন্তে ধারে সেবে তবু নহে ক্ষান্ত।
কায়ক্লেশে কোনক্রমে কেটে যেত দিন, সাধুসঙ্গ চায় শুধু সদা ক্লান্তিহীন।
নামে প্রেমে মত্ত হয়ে বিভোর থাকিত, সেইহেতু বৈষ্ণবেরা ভাল যে বাসিত।
ঘাগরীর একপুত্র জন্মিবার পর, পাগলের কাছে কেঁদে বলে বার বার।
'সন্তানাদি যদি কভু সাধু নাহি হয়, সমস্ত মানুষে যদি গুণ নাহি গায়।
তেমন সন্তানে বল কিবা প্রয়োজন? দয়া করে আশীর্বাদ কর মহাজন।
আমি যেন পাই সেই পরম রতন, নিজগুণে পূরাইবে মম আকিঞ্চন।
সাধু যদি দয়া করে গৌর দিতে পারে, সাধু শাস্ত্র বাক্য এই মিথ্যা হবে নারে।
ভক্ত ভগবানে কভু অভেদ না হয়, দয়া করি হরিচাঁদে দিবে মহাশয়।
তখনেতে পাগলের মনেতে পড়িল, গুরুচাঁদ নিজ মুখে যে কথা বলিল।
চুবন ঘাগরী দুই একত্রে যখন, ঠাকুরের কথা শুনি ভাবেতে মগন।
কাঁদিয়া কহিল তাঁরা গুরুচাঁদ ঠাঁই, "বাবারে পাইব কবে বল মোরে ভাই?
তাহা হেরি গুরুচাঁদ বলে" কিবা চাও? শুধু কানাকাটি কর কথা নাহি কও?
দম্পতি যুগল বলে, "কিবা চাই, ঠাকুরের চরণেতে স্থান যেন পাই।"
গুরুচাঁদ বলে তবে ভক্তগণে ডাকি, "ইহাদের কিবা দিব তোমরা জান নাকি?"
মহানন্দ বলে, 'দিবা ভাল যাহা হয়, গোলক পাগল আরো তাহে দিল সায়।'
'অনিত্য বিষয় দান কভু ভাল নয়, তাহা দিবে যাহা হতে বিশ্ব হিত হয়।'
গুরুচাঁদ বলে, "ভাল বাবা হরিচাঁদ, তোমাকে পাইবে বলে পাতিয়াছে ফাঁদ।
স্মরিয়া বাবাকে বলি পূরাও আশয়, তোমাদের সকলের ইচ্ছা যদি হয়।"
ঘাগরীকে মহানন্দ বলিছে তখন, "হরিচাঁদ পূরাইবে তব আকিঞ্চন।"
চুবন চলিয়া গেল গুরুচাঁদ কাছে, ঠাকুরের শ্রীচরণে করুণা সে যাচে।
গুরুচাঁদ বলে তবে আপন ইচ্ছায়, १४ "তোমার বাড়ি যেতে বাবার অভিপ্রায়।"
ঘাগরী দেখিছে স্বপ্ন বাড়িতে থাকিয়া, "মা বলি ডাকিছে হরি দুয়ারে আসিয়া।"
হরিচাঁদ দরজায় হইয়া উদয়, বলিতেছে মাতা মোরে ঘরে নিতে হয়।
স্বপন দেখিয়া মাতা ঘুম না পড়িল, হরিচাঁদ বলি সদা কাঁদিতে লাগিল।
চুবন আসিল বাড়ি শেষ রাত্রি হলে, দুইজনে এক ঠাঁই হরিচাঁদ বলে।
কেহ কারো কাছে না বলে তখন, ঠাকুরের কথা স্মরি ভাবেতে মগন।
চুবন বলিল পরে ঘাগরীর ঠাঁই, আনন্দ সংবাদ এবে তোমাকে জানাই।
ঠাকুর আসিতে চায় তোমার বাড়িতে, তুমি কি পারিবে তাঁর যতন করিতে?"
ঘাগরী বলিল তবে অশ্রুজলে ভাসি, "মা বলিয়া ডেকে গেছে কিছু পূর্বে আসি।”
বারশত চুরাশিতে হরিচাঁদ যিনি, অপ্রকট হইলেন ভাবময় তিনি।
সেই প্রভু হরিচাঁদ লীলার কারণ, ভূভার হরিতে তাঁর পুণঃ আগমন।
বারশত উননব্বইয়ে জ্যৈষ্ঠ মাসে, বৃহস্পতিবারে হরি বাশুড়িয়া আসে।
সেইদিন পূর্ণশশী নির্মল আকাশ,
অবতীর্ণ ধরাধামে দিয়া পূর্বাভাস। যেই হরি সেই রাই কোন ভেদ নাই,
মূর্খ জনে ভেদ করে অন্ধ তারা তাই।
যেই রাম সেই কৃষ্ণ মিথ্যা কভু নয়, শত শত প্রমাণাদি শাস্ত্রে দৃষ্ট হয়।
রাধাকৃষ্ণ দুহু মিলি একদেহ হ'ল, রায় রামানন্দ ইহা স্বচক্ষে দেখিল।
সেই গৌর রাইচাঁদে অভিন্ন জানিবে, সময়েতে সপ্রমাণ ভক্তেতে পাইবে।
নিজমুখে রাইচাঁদ সে কথা বলিছে, অন্তরঙ্গ ভক্তগণে তাহা জানিয়াছে।
বাশুড়িয়া পাঁচুড়িয়া আশ্রম মন্দিরে, হরিচাঁদ মূর্তি তাই পূজা নাহি করে।
মাতা তার দুঃখ পায় এই সে কারণ, গালাগালি দেন কত সন্তানে তখন।
প্রভু তাহে দুঃখ নাহি করিয়া প্রকাশ, ধীরে ধীরে বলে মায়ে মৃদুমন্দ হাস।
"হরিচাঁদে যেইরূপ আমার কি নয়? নিজের পূজা কি মাতা নিজে করা যায়?"
এতেক শুনিয়া মাতা স্মরে পূর্ব কথা, গুরুচাঁদ বাক্য কভু নহিবে অন্যথা।
রসরাজ আবির্ভাব সুধার ভাণ্ডার, আনন্দে করয়ে পান ভক্তির আধার।
রাইচাঁদ আবির্ভাব শুনে যেইজন, ধর্ম-অর্থ কাম-মোক্ষ হইবে সাধন।
প্রমাণের আবশ্যক হলেও বাহুল্য, কিঞ্চিৎ উল্লেখ করি দমিতে সাকল্য।
প্রমথ ঠাকুর যবে কাউন্সিলে যায়, গুরুচাঁদ সমীপেতে অনুমতি চায়।
গুরুচাঁদ বলে, "ভাই বলিব কি আমি? বাশুড়িয়া গিয়া বল রাই অন্তর্যামী।"
প্রমথ ঠাকুর বলে, "তুমি যে ঠাকুর, সম্মুখে থাকিতে কেন যাব অতদূর?" না যাইব দাদা আমি তাঁহার আলয়, কাউন্সিলে না দাঁড়াব ক্ষতি কিবা তায়?
প্রমথ ঠাকুর যবে এরূপ বলিল, গুরুচাঁদ তখনেতে গর্জিয়া উঠিল।
"প্রেম-ভক্তি দিতে জীবে আর কেবা পারে? হরিচাঁদ বিনা তাহা কেবা শক্তি ধরে?"
সেই বাবা লীলা করে বাশুড়িয়া গাঁয়, সেখানের প্রতি তোর অবজ্ঞা উদয়।
হরিচাঁদে রাইচাঁদে যে ভাবে আলাদা, সেতো মোর কেউ নয় যদ্যপিও দাদা।
আমার যে বাবা সেথা সশরীরে আছে, স্থির জানি ইহা তুমি যাও তাঁর কাছে।
প্রমথ ঠাকুর তবে বাশুড়িয়া আসি,
অনুমতি লয়ে যায় প্রেমানন্দে ভাসি। বার বার কলিকালে কেন অবতার?
মীমাংসা ভক্তেরা দিছে এর বহুবার। সেই সব তত্ত্ব কথার সংক্ষিপ্ত সার, বিবরিত হেথা হ'ল সাধু সমাচার।
পূর্বাপর যত লীলা হইয়া গিয়াছে, দীক্ষা-শিক্ষা নিতে হয় সে বিধান আছে।
সত্য ত্রেতা দ্বাপরেতে আর কলিকালে, প্রয়োজন ঘোর তপ মুক্তি পেতে হলে।
দুর্বল মানুষ এবে তাই দয়া করি, বার বার প্রভু মোর বিশ্বে অবতরি।
সরল সহজ পথ দেখায় মানবে, অমোঘ প্রেমের শক্তি শিখাইতে জীবে।
অল্পদিনে ভুলে যায় প্রভুর নির্দেশ, এইহেতু বার বার লীলায় প্রবেশ। কিছুকাল পূর্বে আসি গোরা রসরায়,
যাঁর প্রেম বন্যা লেগে নদে ভেসে যায়। সংক্ষেপে বলিয়া গেল জীব প্রয়োজনে, যেই কথা পাই মোরা ভক্ত সনাতনে।
নfমে রুচি জীবে দয়া বৈষ্ণব সেবন, ইহা বিনা ধর্ম নাই শোন সনাতন।
মায়া মোহ ঘোরে জীব সে কথা ভুলিলা, তে'কারণে কলি এসে তাদের বান্ধিলা।
জীবের দুর্গতি হেরি পুনঃ আগমন, হরিচাঁদ রূপে এসে মহা সংকীর্তন।
আর বলে হেসে হেসে 'প্রেমভক্তি চাই,' লাগিবেনা দীক্ষা এবে দেখাইল তাই।
সহজ মানুষ পেলে দেহ মন দিয়ে, ডাকিলেই ভব সিন্ধু যাবে পার হয়ে।
অবিশ্বাসী তবু বলে 'এ কেমন শুনি?
এত কি সহজ লভ্য ভগবান তিনি?'
যুগ না চলিয়া যেতে পুনঃ অবতার, না এসে কি পারেন না করিতে নিস্তার?
শাস্ত্রের প্রমাণ হেথা দেয়া গেল তাই, রাম অবতারে শ্রীপরশু রামে পাই।
শাস্ত্রেতে আছয়ে তিনি যষ্ঠ অবতার, ভক্তাধীন ঈশ্বরের এই ব্যবহার।
ভক্তগণ বাঞ্ছাহেতু পূরাইতে আশ, ইচ্ছামত প্রকাশিত হন শ্রীনিবাস।
মৌখিক নহেতো ইহা শাস্ত্র অনুসারে, এই লীলা করিলেন ঋণ শুধিবারে।
দ্বাপরেতে কৃষ্ণলীলা যখন হইল, শ্রীমতির কাছে কৃষ্ণ ঋণী হয়ে প'ল।
এই ঋণ শুধিবারে কি হবে উপায়? ভাবিয়া গৌরাঙ্গরূপে হলেন উদয়।
রাধাকৃষ্ণ দুইরূপ একদেহ ধরি, নবদ্বীপে প্রকাশিল সেই গৌরহরি।
দ্বাপরেতে রাই যত কাঁদে বিরহেতে, কাঁদিয়া কাটায় তত গৌর গম্ভীরাতে।
বৃষভানু কন্যা রাধা বাহিরেতে র'ল, ভিতরেতে প্রাণ কৃষ্ণ লুকায়ে থাকিল।
রাধার সোনার অঙ্গেতে ছাই মাখিয়ে, শুধিবার পরিবর্তে গেল ঋণী হয়ে।
সেই ঋণ শুধিবারে আসা ওড়াকান্দি, ভক্তেরা আনিল পুনঃ পাঁতি প্রেম ফন্দি।
চৈতন্যের প্রতিশ্রুতি রক্ষিত হইল, প্রেমানন্দে ভক্তগণ মাতিয়া রহিল।
সেই ঋণ শুধিবারে মনন করিয়া, বাশুড়িয়া জন্ম নিল রাই নাম নিয়া।
রাই রসরাজ নাম সকলেই গাবে, তা'হলেই কৃষ্ণ চন্দ্র ঋণ মুক্ত হবে।
এইজন্য রাইনাম করিয়া ধারণ, গৌর বরণ হলেন পতীত পাবন।
সেইজন্য জগতের সব জীবগণ, বলে আজ প্রেম বিনা সব অকারণ।
প্রেম দিয়া মাতাইয়া অখিল সংসার, জীবগণে করেছেন ভব সিন্ধু পার।
রাইচাঁদ আবির্ভাব অমৃত সমান, কথনে প্রারব্ধ নাশ শুণে পুণ্যবান।
রাই রসরাজ প্রীতে দেই হরিধ্বনি, জয় রাই জয় রাই বল ভাই শুনি।
পরবর্তী পর্ব দেখতে এখানে ক্লিক করুন
Add reaction |


0 Comments