শ্রীশ্রীশুকদেব ব্রহ্মচারী উপাখ্যান
জয় জয় রাইচাঁদ বাঞ্ছাকল্পতরু, অনাদি অনন্ত তুমি জগতের গুরু।
জয় জয় মহাপ্রভু করুণা সাগর, জয় জয় রসরাজ প্রেমিক নাগর।
যখনেতে জন্মিয়াছে রাই ভগবান, সাধকেরা পাইয়াছে তাঁহার সন্ধান।
প্রেমের ঠাকুর রাই সবার সে প্রাণ, এক চিত্তে ভজ তাঁরে না হয়ে অজ্ঞান।
শুকদেব ব্রহ্মচারী বাল্যকাল হতে, আশ্রমের কার্য করে ভক্তির সহিতে।
ঠাকুরের কাছে থাকে ব্যাকুলিত চিতে, বঞ্চিত হয় না কেহ কর্মফল হতে।
একদিন বলে প্রভু, 'শুকদেব শোন, ফটিক গোসাঁই কাছে তুমি দীক্ষা মান।' দীক্ষা শিক্ষা নাহি জানে কে বলে গোসাঁই?
সেই সে কারণে তাহা ভাল জানা নাই।
অনিমা লঘিমা শক্তি করি উপার্জন, মানব কল্যাণ কর সদা সর্বক্ষণ।
রোগ শোক অভাবাদি করি প্রতিকার, সাধ্যমত কর সেবা জীবের এবার।
অন্তর্যামী প্রভু জানি অন্তর সবার, জীবমাত্রে ভিন্নাদেশ কল্যাণ যাহার।
বিভিন্ন ব্যাধিতে হয় অনুপান ভিন্ন, ভেষজ মকরধ্বজে আছে তার চিহ্ন।
বিশ্ববাসী পুরুষাকারে মহাতেজী শুক, শুনিয়া প্রভুর বাণী কাঁপে তাঁর বুক।
আশ্বাসী নির্দেশ করে করিতে আশ্রম,
খাটরাতে ব্যবস্থা করে না করি বিশ্রাম। তপঃ সিদ্ধ মহামতি যোগী শুকদেব, দেখিলেই মনে হয় যেন মহাদেব।
শুকদেব চিরদিন ঠাকুরের ভক্ত, ঠাকুরের পদে সদা থাকে অনুরক্ত।
যাহা কিছু করিয়াছে আশ্রম মাঝারে, অকপটে বলে তাহা 'রাইচাঁদ বরে।'
ঠাকুরের নির্দেশনা আর উপদেশ,
মানিয়া চলিতে তাঁর নাহিক বিদ্বেষ। কতদূর দৈর্ঘ্য প্রস্থ কোন স্থানে হবে,
যাহা বলে প্রভু তাহা মানে শুকদেবে। বাশুড়িয়া, পাঁচুড়িয়া উৎসব কালে,
যোগদান করে থাকে অতি কুতূহলে।
যদি কেহ ঠাকুরের করে আলোচনা, ধীরভাবে তিনি আর থাকিতে পারে না।
ভাবেতে চঞ্চল হয়ে হয় আত্মহারা, প্রাণের ঠাকুর রাই নয়নের তারা।
প্রাণ প্রিয় বলে শুক ভালবাসে রাই, এত ভাল বাসাবাসি আর দেখি নাই।
'মাসী মাতা' বলি প্রভু সম্ভাষি কৌতুকে, সর্বকালে শুকদেব ঐ নামে ডাকে।
চির ব্রহ্মচারী শুক কঠোর সাধক, বাহিরেতে হিমালয় অন্তরে পাবক।
মনের মানুষ পেয়ে করে আরাধনা, ইষ্টে নিষ্ঠ বর পেয়ে পাইল সান্তনা।
সহস্র সহস্র লোক দীক্ষা শিক্ষা দিয়া, পরম আনন্দে থাকে ঠাকুরে পাইয়া।
মনে করে শক্তি লাভ তাঁহার করুণা, না হইলে কোথা হতে পাইনু প্রেরণা।
মান্দরা খাটরা করি আশ্রম স্থাপন, উৎসবে আসে যায় সহ শিষ্যগণ।
পরেতে আশ্রম করে পশ্চিম বঙ্গেতে, ইছাপুর দাইপুর আছে আনন্দেতে।
জ্যোতির্ময় প্রিয় শিষ্য খ্যাতি ব্রহ্মচারী, চন্দ্র গোসাঁই বলে পরিচয় যারই।
তাঁহাকেও দেখিয়াছি উৎসব কালে, সশিষ্যে আসি মিশে রাইভক্ত দলে।
শুনেছি তাঁহার মুখে রাই ভগবান, সর্বদর্শী ভক্তাধীন মূরতি কল্যাণ।
রাই রসরাজ লীলা অপূর্ব ভারতী, শ্রবণেতে পাপ নাশ পেয়ে বড় প্রীতি।
ভক্ত নরোত্তম গোসাঁই উপাখ্যান
জয় জয় রাইচাঁদ কমলার পতি, স্রষ্টার আরাধ্য তুমি অগতির গতি।
সেইজন তব চিন্তা চিন্তে হৃদিমাঝ, বাঞ্ছাপূর্ণ কর তার রাই রসরাজ।
জয় জয় মহাপ্রভু জয় ভক্তগণ, যাঁদের কৃপায় পাই প্রেম মহাধন।
আন্তরিক অভিলাষ যাঁর রহিয়াছে, সেইজন তোমার প্রভু খোঁজ পাইয়াছে।
দেওপরা গ্রামে ছিল এক মহাজন, নরোত্তম গোসাঁইরে জানে সর্বজন।
বৈষ্ণব সাধক ছিল সে চির কুমার, বটবাড়ি গ্রামে আছে আশ্রম তাঁহার।
বাল্যকালে রাইচাঁদ সঙ্গে ফিরেছে, ঠাকুরের লীলা খেলা স্বচক্ষে দেখেছে।
সাধুরা কৃপণ বড় না করে প্রচার, সম্বন্ধ কিম্বা দর্শন ইথে সমাচার।
রাইচাঁদ লীলাখেলা বোঝে সাধ্য কার, আদেশিল নরোত্তমে নামের প্রচার।
অনন্ত তাঁহার লীলা কে বুঝে মহিমা, ব্যবহার তারতম্যে বাড়ে মধুরিমা।
কথাচ্ছলে একদিন বলে ভক্ত মাঝে, পাতা ভাঙ্গ যার যার হাতের মেজাজে।
কিন্তু দাতা দিবে হাতের ওজন আছে, ভুলে গেলে এই কথা পড়ে যাবে পিছে।
সাড়ে সাত শত বর্ষ বয়ঃ ক্রম যার, তারাও জেনেছে ভবে রাইচাঁদ সার।
ঠাকুরের শ্রীপদেতে সঁপে দেহ মন, হইয়াছে তাহারা রসিক মহাজন।
রসরাজ লীলা কথা অমৃত সমান, শুনিলে হইরে তাঁর কল্যাণ।
পাগোল অনন্ত গোসাঁই উপাখ্যান
জয় জয় রাইচাঁদ প্রেমময় হরি, জীবেরে তারিতে এলে নররূপ ধরি।
অধম জনের তুমি পতীত পাবন, দয়া করে কলিকালে জীব উদ্ধারণ।
অনন্ত পাগল ছিল ভোলাই গ্রামেতে, যাঁরে তুমি কৃপা কর শিশুকাল হতে।
যত দেশে আছে যত ভাবের মানুষ, তোমার কৃপায় তাঁরা হইয়াছে হুস।
সুকৃতি রয়েছে যাঁর পূর্ব জনমের, সেই সে তোমারে জানে পূজ্য সকলের।
খুলনা জেলার মাঝে ভোলাই মন্দিরে, সকাল সন্ধ্যায় নাম তাহার ভিতরে।
ঠাকুর সম্বন্ধে তাঁরে বলে, মোর নীতি, রীতি দেখে খুশী হয়ে করিনু পিরীতি।
বলা আছে পূর্ব হতে এদের স্বভাব, প্রতিষ্ঠা শূকরী বিষ্ঠা সদা মনোভাব।
সেইহেতু পাগলের কীর্তি জানা নাই, আচারে বোঝায় সবে পাইয়াছে রাই।
তাঁহার আলয়ে যদি যায় ভক্তগণ, সেবায় সন্তুষ্ট তাঁরা হয় অনুক্ষণ।
হরিচাঁদরূপে দয়া পেয়েছে অনন্ত,
ভক্তের মহিমা কেবা জানে আদ্যোপান্ত।
হরিচাঁদে ভক্তি করে জানিয়া ঈশ্বর,
অনন্ত অন্তরে জানে হয় না বিস্ময়।
রাই রসরাজ লীলা অমৃতের সিন্ধু,
ভব সিন্ধু পারে যাবে পেলে এক বিন্দু।
পরবর্তী পর্ব দেখতে এখানে ক্লিক করুন


0 Comments