পর্ব ২৮: প্রথম দিনের যুদ্ধ – ভীষ্মের রণকৌশল
গীতা উপদেশের পর কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের ঘণ্টা বাজে। প্রথম দিনের যুদ্ধ ছিল ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ও কৌশলনির্ভর এক সম্মুখসমর। ভীষ্ম ছিলেন কৌরব সেনাপতি। পাণ্ডবদের উদ্দেশ্যে তিনি ঘোষণা করেন—
"আমি যতদিন বেঁচে আছি, ততদিন তোমরা বিজয় লাভ করতে পারবে না।"
যুদ্ধের সূচনা:
ভীষ্ম পিতামহ ছিলেন প্রবীণ, কিন্তু সাহস, শক্তি ও রণনীতি জানার দিক থেকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
তিনি কৌরবদের রণশক্তিকে সাজিয়ে "চক্রব্যূহ" ও "উল্কা আকৃতি ব্যূহ" তৈরি করেন।
যুদ্ধের প্রথম প্রহর:
- দ্রোণ, কৃপাচার্য, অশ্বত্থামা এবং দুর্যোধন একসঙ্গে আক্রমণ করেন।
- পাণ্ডবদের পক্ষে ভীম, যুধিষ্ঠির, দৃষ্টদ্যুম্ন ও সংঘর্ষ করেন সাহসে ভরপুর হয়ে।
- অভিমন্যু, পাণ্ডবদের তরুণ যোদ্ধা, সাহসিকতার পরিচয় দেয়।
ভীষ্মের রণকৌশল:
ভীষ্ম জানতেন—
- কুরুক্ষেত্র শুধু বলের লড়াই নয়, কৌশলের যুদ্ধ।
- তিনি প্রথম দিনে এমন আক্রমণ শুরু করেন যাতে পাণ্ডবরা ভয় পায় ও যুদ্ধ মনোবল হারায়।
তিনি অর্ধেক দিনের মধ্যেই হাজার হাজার সৈন্য নিধন করেন।
শ্রীকৃষ্ণের ভূমিকা:
যদিও শ্রীকৃষ্ণ রথের সারথি, তবু তাঁর চোখে যুদ্ধের প্রতিটি মোড় স্পষ্ট।
তিনি অর্জুনকে শুধু রথ পরিচালনা দিয়ে নয়, সময় মতো কৌশলও জানান।
- প্রথম দিন শ্রীকৃষ্ণ নিরব থাকলেও তাঁর ভেতরে ক্রোধ জাগে যখন দেখেন অর্জুন দ্বিধায় ভুগছে।
ফলাফল:
- পাণ্ডব সেনাপতি দৃষ্টদ্যুম্ন বিশাল ক্ষয়-ক্ষতি রোধে সক্ষম হন।
- তবু প্রথম দিনে কৌরবদের সুবিধা ছিল বেশি।
- ভীষ্মের প্রভাব ও রণকৌশলে পাণ্ডবরা ব্যাকফুটে চলে যায়।
শিক্ষা:
- কৌশল ও নেতৃত্ব যুদ্ধ জয় করে; শুধু শক্তি নয়।
- শ্রীকৃষ্ণের নীরব উপস্থিতি মানে তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন পরিবর্তনের।
- ভীষ্মের নীতিবোধ ও কর্তব্যপরায়ণতা প্রশংসনীয়, যদিও তা দুর্যোধনের পক্ষেই ব্যবহৃত হচ্ছিল।
পরবর্তী পর্ব দেখতে এখানে ক্লিক করুন


0 Comments