পর্ব ৪০: কালচক্র সম্পূর্ণ – কালী যুগের সূচনা ও শ্রীকৃষ্ণের প্রভাব
যুগান্তরের মুহূর্ত
হিন্দু ধর্মমতে, সময় চারটি যুগে বিভক্ত—
সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর, কলী।
শ্রীকৃষ্ণের মৃত্যু দ্বাপর যুগের অবসান ঘটিয়ে কলী যুগের সূচনা করে।
এটি কেবল একটি কাল পরিবর্তন ছিল না—
বরং একটি ধর্ম ও নৈতিকতার বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা।
কলী যুগের লক্ষণ
ব্রহ্মাবৈবর্ত পুরাণ ও অন্যান্য শাস্ত্র অনুসারে, কলী যুগে দেখা যায়:
- সত্যের অবনতি
- ধর্মের চার স্তম্ভের তিনটি দুর্বল হয়ে পড়ে
- মানুষের মধ্যে কাম, ক্রোধ, মোহ ও লোভ প্রবল হয়ে ওঠে
- আত্মজ্ঞান ও সৎচিন্তার অবমূল্যায়ন শুরু হয়
“যেই মুহূর্তে শ্রীকৃষ্ণ পৃথিবী থেকে অন্তর্ধান করলেন, সেই মুহূর্তেই কালী যুগ প্রবেশ করল।”
কৃষ্ণের শিক্ষা কালী যুগে
যদিও কৃষ্ণ এই যুগের সূচনায় পৃথিবী ত্যাগ করেন,
তাঁর গীতা উপদেশ এই যুগেও মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হয়ে রয়ে যায়।
- কর্মযোগ
- ভক্তিযোগ
- জ্ঞানযোগ
- আত্মসমর্পণ
এই চারটি মূলনীতি কলী যুগে আত্মশুদ্ধির প্রধান উপায় হয়ে ওঠে।
ধর্মের পতন ও কৃষ্ণ ভাবনা
কালী যুগে ধর্মের ওপর আঘাত আসবে —
তবে শ্রীকৃষ্ণে বিশ্বাস ও তাঁর নামসংকীর্তনই
এই যুগে আত্মার মুক্তির সর্বোত্তম মাধ্যম।
"হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ
কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে"
— এই মহামন্ত্রই কলী যুগের ধর্মপথ।
কৃষ্ণভাবনামৃত ও ভবিষ্যতের আশ্বাস
ভবিষ্য পুরাণ বলেছে—
এই যুগে শ্রীকৃষ্ণের নাম জপ, লীলা স্মরণ ও শরণাপন্নতাই
মোক্ষ লাভের একমাত্র পথ।
এই যুগেই চৈতন্য মহাপ্রভুর মতো মহাপুরুষরাও কৃষ্ণ নামের প্রচার করেন।
যুগান্তের শিক্ষা- প্রতিটি যুগের সমাপ্তি একটি নতুন সূচনা
- শ্রীকৃষ্ণ চিরকালীন— তিনি সময়ের ঊর্ধ্বে
- কালী যুগে অন্ধকার বেশি হলেও, আলোর পথও আছে—
- আর সেই পথ হলো শ্রীকৃষ্ণ নাম ও উপদেশ
পরবর্তী পর্ব দেখতে এখানে ক্লিক করুন

0 Comments