শ্রীকৃষ্ণের কংসবধ: অত্যাচারী কংসের মৃত্যু ও মথুরার মুক্তি

 


শ্রীকৃষ্ণ জীবনী – পর্ব ১৬: কংসবধ – অন্যায়ের অবসান


কংস: এক অত্যাচারী শাসকের উত্থান:

মথুরার রাজা কংস ছিলেন এক নিষ্ঠুর শাসক। তিনি তাঁর নিজের বোন দেবকী ও ভগ্নীপতি বসুদেবকে বন্দি করেন, কারণ এক দৈববাণীতে বলা হয়েছিল—দেবকীর অষ্টম সন্তানই কংসের মৃত্যুর কারণ হবে। এই ভয়ে কংস দেবকীর প্রথম ছয়টি সন্তানকেই হত্যা করেন। সপ্তম গর্ভে জন্ম নেয় বলরাম এবং অষ্টম গর্ভে জন্ম নেন শ্রীকৃষ্ণ।

কৃষ্ণের গোপন প্রতিপালন:

কৃষ্ণ জন্মের পরে বসুদেবের মাধ্যমে গোকুলে পালিত হন যশোদা-মায়ের কোলে। কংস বারবার পুতনা, শকটাসুর, ত্রিনাবর্ত, কেশী প্রভৃতি অসুর পাঠিয়ে কৃষ্ণকে হত্যার চেষ্টা করে, কিন্তু প্রতিবারই কৃষ্ণ তাদের বিনাশ করেন। কৃষ্ণ ও বলরামের বীরত্ব ও অলৌকিক ক্ষমতার কথা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

কংসের কূটচাল: ধনুর যজ্ঞের আয়োজন:

কৃষ্ণ ও বলরাম বড় হলে কংস একটি চক্রান্ত করেন। তিনি ‘ধনুর যজ্ঞ’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করে তাঁদের মথুরায় আমন্ত্রণ জানান। কংসের উদ্দেশ্য ছিল—এই দুই ভাইকে রাজপ্রাসাদে এনে হত্যা করা। কিন্তু কৃষ্ণ সব বুঝতে পেরেও মথুরায় যাত্রা করেন, কারণ তাঁর ছিল বৃহৎ উদ্দেশ্য—মথুরাকে মুক্ত করা।

মথুরায় কৃষ্ণ-বলরাম: অসুর বিনাশ ও প্রাসাদে প্রবেশ:

মথুরায় প্রবেশের পর কৃষ্ণ ও বলরাম কংসের পাঠানো চাণূ ও মুষ্টিক নামের দুই বিশাল দেহধারী মল্ল যোদ্ধার সঙ্গে লড়াই করেন। এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে তাঁরা এই মল্লদের হত্যা করেন। এরপর কৃষ্ণ এগিয়ে যান রাজসিংহাসনের দিকে, যেখানে কংস অধীর হয়ে বসে ছিলেন।

কংসবধ: অন্যায়ের অবসান:

কৃষ্ণ সকলের সামনে এগিয়ে এসে এক লাফে সিংহাসনে উঠে কংসকে ধরে ফেলেন। দু-এক মুহূর্তের মধ্যেই তিনি কংসকে মাটিতে ফেলে দিয়ে হত্যা করেন। এক ভয়ংকর অত্যাচারীর অবসান হয়। মথুরার আকাশে তখন বিজয়ধ্বনি ওঠে, বন্দীরা মুক্তি পায়, এবং দেবকী-বসুদেবকে কারাগার থেকে উদ্ধার করা হয়।


ধর্ম ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা:

কৃষ্ণের কংসবধ ছিল শুধু ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নয়, এটি ছিল সমাজে ধর্ম ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা। কংসের মৃত্যুর মাধ্যমে তিনি সমাজে বার্তা দেন—

  • "অন্যায় যত শক্তিশালী হোক, সত্য ও ন্যায় একদিন বিজয়ী হবেই।"

তিনি তাঁর দাদা উগ্রসেনকে রাজগদিতে পুনঃবসান করেন এবং রাজ্য পরিচালনার ভার দেন।

কংসবধ কাহিনী শুধু একটি পৌরাণিক গল্প নয়, এটি একটি নৈতিক শিক্ষা — অন্যায়, অত্যাচার ও নিষ্ঠুরতা কখনও টিকে থাকতে পারে না। শ্রীকৃষ্ণের এই কর্ম ভবিষ্যতের অনেক ঘটনাপ্রবাহের সূচনা করে।

পরবর্তী পর্ব দেখতে এখানে ক্লিক করুন

Post a Comment

0 Comments