পর্ব 18:কৃষ্ণ ও সত্যভামার মিলন – অহংকার, প্রেম ও স্বর্ণের শিক্ষা
সত্যভামা কে ছিলেন?
সত্যভামা ছিলেন সুর্যবংশীয় রাজা সত্যজিৎ এর কন্যা। তিনি ছিলেন অপূর্ব সুন্দরী, বুদ্ধিমতী ও গর্বিনী। তিনি নারায়ণভক্ত হলেও, তাঁর চরিত্রে একপ্রকার আত্মগর্ব ও অধিকারবোধ ছিল। কৃষ্ণের প্রতি তাঁর ছিল গভীর প্রেম, কিন্তু সেই প্রেমে ছিল কিছুটা অধিকারবোধ ও ঈর্ষার ছোঁয়া।
অহংকার ও প্রেমের সংঘাত:
সত্যভামার অহংকার একসময় কৃষ্ণের কাছে প্রকাশ পায় যখন তিনি ভাবতে থাকেন— কৃষ্ণকে নিজের সৌন্দর্য ও ধনসম্পদের দ্বারা জয় করেছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, কৃষ্ণ তার প্রতি সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট তার সৌন্দর্য, ঐশ্বর্য ও অভিজাত বংশের কারণে।
এই অহংকার একদিন কৃষ্ণের চুপচাপ মধুর হাসিতে টুকরো হয়ে গেল। কৃষ্ণ সত্যভামাকে শিক্ষা দিতে চান অহংকার ও অধিকার ছেড়ে দিয়ে প্রেম ও আত্মসমর্পণের পথ বেছে নেওয়ার।
তুলার পাল্লা – স্বর্ণের শিক্ষা:
একবার নারদ মুনি সত্যভামার অহংকার পরীক্ষা করার জন্য এক অভিনব পরিকল্পনা করেন। তিনি বলেন, যদি সত্যভামা সত্যি চান কৃষ্ণ চিরকাল তাঁর হোন, তবে তাঁকে কৃষ্ণকে স্বর্ণ দিয়ে তোলার পাল্লায় ওজন করে সমপরিমাণ স্বর্ণ দান করতে হবে।
সত্যভামা আনন্দে রাজি হয়ে যান এবং কৃষ্ণকে একটি বিশাল পাল্লার এক পাশে বসানো হয়। অন্য পাশে সত্যভামা সোনা, রত্ন, অলংকার, রাজকীয় ধন একের পর এক রাখেন। কিন্তু কিছুতেই পাল্লা সমান হয় না! কৃষ্ণের ওজনের তুলনায় সব সোনা-রত্ন হালকা পড়ে।
অহংকারে বিদ্ধ সত্যভামা তখন হতাশ হন। তখন কৃষ্ণের আরেক পত্নী রুক্মিণী আসেন। তিনি একটিমাত্র তুলসী পত্র ভক্তি সহকারে কৃষ্ণের নাম নিয়ে পাল্লায় রাখেন। সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা ভারসাম্য পায়।
মূল শিক্ষা:
- সত্যভামার মত যদি আমরা ভাবি, প্রেম শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য বা সম্পদে হয়, তবে সেটা ক্ষণস্থায়ী।
- রুক্মিণীর মত নিঃস্বার্থ আত্মসমর্পণই কৃষ্ণ বা ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করতে পারে।
- সোনা বা বস্তু দিয়ে ভগবানকে পাওয়া যায় না, তাঁকে পাওয়া যায় শুধুমাত্র ভক্তি দিয়ে


0 Comments