কালীয় নাগ দমন: শ্রীকৃষ্ণের বিষাক্ত সাপ জয় করার অভূতপূর্ব লীলা

 


পর্ব ৬: কালীয় নাগ দমন

গোকুলবাসী যখন নন্দনন্দন শ্রীকৃষ্ণের লীলায় মুগ্ধ, তখন এক ভয়ংকর বিপদ নেমে আসে যমুনার তীরে। যমুনার জলে এক বিষাক্ত সাপ বাস করত, যার নাম ছিল কালীয়। তার বিষে যমুনার জল কালো হয়ে গিয়েছিল। পাখি, পশু এমনকি মানুষও সে জলের ধারে ঘেঁষলেই মৃত্যু হতো। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ভয়।

একদিন শ্রীকৃষ্ণ তাঁর গোপসঙ্গীদের সাথে খেলতে খেলতে বল নিতে গিয়ে যমুনার ধারে পৌঁছান। সেখানে সবাই দেখল, বলটি যমুনার জলে পড়ে গেছে। সবাই ভীত, কারণ সবাই জানে এই জলে আছে ভয়ঙ্কর কালীয় নাগ। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ ভয় পাননি। তিনি সোজা যমুনায় ঝাঁপ দেন।

শ্রীকৃষ্ণের শরীর ছোঁয়ামাত্রই যমুনার জল বিশুদ্ধ হয়ে উঠতে শুরু করে। কালীয় নাগ তখন রেগে গিয়ে তাঁর শরীরে পেঁচিয়ে ধরল। সেই সময় গোলোলে হাহাকার পড়ে গেল—"আমাদের কিশোর কোথায়? আমাদের কানাই বাঁচাও!"

কিন্তু এই দৃশ্য ছিল শুধুই লীলার অংশ। হঠাৎ সবাই দেখে শ্রীকৃষ্ণ কালীয় নাগের ফণা দিয়ে উঠে দাঁড়িয়েছেন, আর সেই ফণার উপর নৃত্য করছেন। এই দৃশ্য যেন স্বর্গীয় — যমুনার জলে বিষ নয়, এবার উঠে এল আনন্দের ঢেউ।

শ্রীকৃষ্ণ তাঁর পদতলে কালীয়কে পদদলিত করেন এবং বোঝান যে, অহংকার আর হিংসা দিয়ে কেউ টিকে থাকতে পারে না। কালীয় শ্রীকৃষ্ণের কাছে ক্ষমা চায় এবং প্রতিজ্ঞা করে সে আর কারও ক্ষতি করবে না। এরপর শ্রীকৃষ্ণ তাকে আদেশ দেন যমুনা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে। কালীয় তার পরিবারসহ যমুনা ত্যাগ করে।

এই লীলার মাধ্যমে শ্রীকৃষ্ণ দেখিয়েছেন যে, যত বড় বিপদই আসুক, ভক্তি ও সাহস থাকলে জয় আসবেই। কালীয় দমন শুধু একটি পৌরাণিক কাহিনি নয়, এটি আমাদের জীবনের প্রতীক — যেখানে প্রতিকূলতার মধ্যে থেকেও সাহসী হতে শেখায়।

পরবর্তী পর্বে আমরা জনব-মাখন চুরি লীলা শৈশবের মধুরতম কাহিনী

পরবর্তী পর্ব দেখতে এখানে ক্লিক করুন-জয় শ্রী কৃষ্ণ

Post a Comment

0 Comments