পর্ব ৯: মথুরা যাত্রা – কৃষ্ণ ও বলরামের রাজসভায় পদার্পণ
গোকুল ও বৃন্দাবনে শৈশব-কৈশোরের লীলা শেষ করে শ্রীকৃষ্ণ এবার পা রাখেন এক নতুন ধাপে—মথুরা যাত্রা। এটি কেবল একটি ভৌগোলিক স্থানান্তর নয়, বরং এটি ছিল ধর্ম প্রতিষ্ঠা ও অধর্ম নিধনের লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ যাত্রা।
এটি সেই পর্ব, যেখানে কৃষ্ণ ও বলরাম তাঁদের অলৌকিক শক্তিকে ব্যবহার করে কংসের দুর্নীতিগ্রস্ত রাজত্বের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।
কংসের ষড়যন্ত্র
শ্রীকৃষ্ণের গোকুলে থাকাকালীনই কংস তাঁর মৃত্যু ভয় থেকে নানা রাক্ষস পাঠিয়ে ব্যর্থ হয়েছিল। এবার সে অন্য কৌশলে—চান্দ্রযজ্ঞ উপলক্ষে মথুরায় কৃষ্ণ ও বলরামকে নিমন্ত্রণ করে পাঠায়। তবে এর পেছনে ছিল এক ভয়ংকর পরিকল্পনা
- কংস চেয়েছিল, যজ্ঞ অনুষ্ঠানের ছলে তাঁকে মল্লযুদ্ধে হত্যা করতে।
যাত্রা ও বিদায়
যশোদা, নন্দ ও গোপীরা কৃষ্ণকে বিদায় দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। বৃন্দাবনের লোকেরা কৃষ্ণ ও বলরামকে নিয়ে গর্বিত হলেও তাঁদের চোখে জল—কারণ কৃষ্ণ তাঁদের হৃদয়ের প্রাণ।
কৃষ্ণ বৃন্দাবন ছেড়ে কখনো আর স্থায়ীভাবে ফিরে আসেননি—এই পর্বে সেই আবেগঘন মুহূর্ত ফুটে ওঠে।
মথুরা প্রবেশ ও কুবলয়াপীড় বধ
মথুরার প্রবেশদ্বারে দাঁড়িয়ে ছিল কংসের পোষা ভয়ঙ্কর হাতি কুবলয়াপীড়। এটি ছিল কৃষ্ণকে মথুরার মধ্যেই হত্যা করার প্রথম ফাঁদ।
কিন্তু কৃষ্ণ হাসিমুখে সেই হাতিকে দুই দাঁত ধরে মাটিতে আছাড় দেন এবং তাকে মেরে ফেলেন। মানুষেরা বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যায়।
রাজসভায় আগমন ও সম্মান
এরপর কৃষ্ণ ও বলরাম রাজসভায় প্রবেশ করেন। কংস তাঁদের অপমান করতে রাজপথে ধুলোমাখা পথে চলার নির্দেশ দিয়েছিল, কিন্তু তাঁরা গর্বের সাথে প্রাসাদে প্রবেশ করেন।
এই পর্বে তাঁদের মধ্যে থাকা সাহস, আত্মবিশ্বাস, এবং ধর্মনিষ্ঠার পরিচয় স্পষ্ট হয়।
আধ্যাত্মিক তাৎপর্য:
- মথুরা প্রতীক হল সমাজের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো।
- গোকুল থেকে বিদায় দেখায় সংসার থেকে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ।
- কুবলয়াপীড় বধ মানে বাহ্যিক বাধা অতিক্রম করে ধর্মপথে এগিয়ে চলা।


0 Comments