পর্ব ২৮
দেবী পার্বতীর মহাতপস্যা ও মহাদেবের মনঃসংযোগ
হিমালয় পর্বতের পাদদেশে, শান্ত ও নির্জন এক আশ্রমে দেবী পার্বতী তপস্যায় লিপ্ত। তাঁর একমাত্র লক্ষ্য—মহাদেবকে পতিরূপে পাওয়া। দেবী জানেন, মহাদেব যোগেশ্বর, জগৎপালক, ত্যাগী এবং সম্পূর্ণভাবে যোগ-ধ্যানে নিমগ্ন। তাঁকে জাগতিক সম্পর্কে টানা সহজ নয়। তবুও, পার্বতীর দৃঢ় সংকল্প—তাঁর জন্ম, লালন, আর জীবনের প্রতিটি উদ্দেশ্য কেবল মহাদেবের সাথে মিলনের জন্যই।
পার্বতীর তপস্যার সূচনা
রাজা হিমালয় ও রানী মেনা কন্যার জন্য নানা প্রাসাদ ও আরামের আয়োজন করেছিলেন। কিন্তু পার্বতী সেসব ত্যাগ করে অরণ্যে আসেন। তিনি বৃক্ষতলে বসে কঠোর ব্রত নেন—
- প্রথমে কেবল ফল খেয়ে দিন কাটান
- পরে শুকনো পাতা
- শেষে জলও পরিত্যাগ করে নিঃশ্বাসের বাতাসে জীবনধারণ করেন
দেবলোকের উদ্বেগ
দেবরাজ ইন্দ্র জানতেন—যদি মহাদেব ধ্যান ভঙ্গ করে বিবাহ করেন, তবে তা অসুরদের উপর দেবশক্তির প্রভাব বাড়াবে। কিন্তু একইসাথে, তারকাসুর বধের জন্য মহাদেব ও পার্বতীর মিলন প্রয়োজন। তাই দেবলোক পার্বতীর তপস্যা সফল করার জন্য সহযোগিতা করে, যদিও এ কাজে কিছু কৌশলও নেওয়া হয়।
কামদেবের আগমন
মহাদেব তখন কৈলাসে গভীর ধ্যানে লীন। তিনি পার্বতীর উপস্থিতি অনুভব করলেও মন একাগ্র রেখেছেন। দেবতারা কামদেবকে অনুরোধ করলেন—"মহাদেবের ধ্যান ভঙ্গ কর, যাতে পার্বতীর সঙ্গে তাঁর মিলন সম্ভব হয়।"
কামদেব বসন্তের সৌরভ ও পুষ্পবাণ নিয়ে মহাদেবের সামনে আসেন। পার্বতী তখন শিবলিঙ্গের পূজা করছেন, আর মহাদেব যোগাসনে বসে আছেন। কামদেব তাঁর পুষ্পবাণ ছুঁড়লেন…
ধ্যানভঙ্গ ও ক্রোধ
কামদেবের বাণ হৃদয়ে লাগতেই মহাদেবের চিত্তে সামান্য আলোড়ন হয়। তিনি চোখ মেলে চারপাশ দেখেন—সামনে পার্বতী, তাঁর ভক্তি ও ত্যাগে দীপ্তিময়। কিন্তু একইসাথে, তিনি কামদেবের উপস্থিতি অনুভব করলেন। এক তীব্র দৃষ্টিতে তিনি কামদেবকে ভস্ম করে দেন।
পার্বতীর পরীক্ষা
মহাদেব পার্বতীর দিকে তাকিয়ে বললেন—
"তুমি যে আমার পত্নী হতে চাও, তা কি কামনার কারণে, না ভক্তির কারণে? আমি সংসারত্যাগী যোগী।"
পার্বতী শান্ত স্বরে উত্তর দিলেন—"প্রভু, আমি আপনাকে কেবল ঈশ্বররূপে দেখি। আমার ভালোবাসা ভক্তির শুদ্ধ রূপ। আপনার সঙ্গ ছাড়া আমার জীবনের কোনো অর্থ নেই।"
অনুমোদন ও আশীর্বাদ
মহাদেব পার্বতীর তপস্যা ও আন্তরিকতায় প্রভাবিত হন। তিনি বলেন—"হে গৌরী, তোমার ভক্তি ও তপস্যা আমাকে জয় করেছে। সময় আসছে, যখন আমরা মিলিত হবো।"
দেবলোক আনন্দিত হয়, কারণ তারা জানত—এই মিলনেই তারকাসুরের বিনাশ সম্ভব।
পরবর্তী পর্ব দেখতে এখানে ক্লিক করুন


0 Comments