গরুড় পুরাণে তন্ত্র-মন্ত্র, স্তোত্র ও রক্ষাকবচ

 


পর্ব ১১


তন্ত্র-মন্ত্র, স্তোত্র ও রক্ষাকবচ


গরুড় পুরাণ মূলত ধর্ম, নীতি, মৃত্যুর পর আত্মার যাত্রা ও মোক্ষলাভের পথ বর্ণনা করে। তবে এর মধ্যে বিশেষ এক অধ্যায় আছে যেখানে তন্ত্র-মন্ত্র, স্তোত্র ও রক্ষাকবচ নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে।

এই অংশ বিশেষভাবে মানুষের জীবনে ভয়, অশুভ প্রভাব, ভূতপ্রেত, রোগব্যাধি, দুঃস্বপ্ন, অকালমৃত্যু ইত্যাদি থেকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। গরুড় পুরাণ বলছে—
“যে মন্ত্র, স্তোত্র ও রক্ষাকবচ পাঠ করে, তাকে অশুভ শক্তি কখনো আক্রমণ করতে পারে না।”

তন্ত্র-মন্ত্র: আধ্যাত্মিক শক্তির প্রয়োগ

১. তন্ত্র
  • “তন্ত্র” অর্থ হলো আধ্যাত্মিক শক্তি প্রয়োগের বিশেষ পদ্ধতি।
এর মূল উদ্দেশ্য
  • ঈশ্বরসাধনা।
  • অশুভ শক্তি নিবারণ।
  • আত্মরক্ষা।
গরুড় পুরাণে বলা আছে
  • যে সৎ উদ্দেশ্যে তন্ত্রসাধনা করে, তার চারিদিকে অদৃশ্য রক্ষাকবচ সৃষ্টি হয়।
২. মন্ত্র
  • মন্ত্র হলো ঈশ্বরীয় শক্তির ধ্বনি।
  • “মন্ত্র” শব্দের অর্থ—মনকে রক্ষা করে।
গরুড় পুরাণে বিভিন্ন মন্ত্র উল্লেখ করা হয়েছে, যেমন

(i) বিষ্ণুমন্ত্র

“ওঁ নমো নারায়ণায়”

যমরাজের ভয়, মৃত্যুর যন্ত্রণা ও অশুভ প্রভাব থেকে মুক্তি দেয়।

(ii) গরুড় মন্ত্র

“ওঁ গরুডায় নমঃ”
 সাপ, বিষ ও ভয়ের প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

(iii) মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র

“ওঁ ত্র্যম্বকং যজামহে...”
অকালমৃত্যু, রোগ ও বিপদ থেকে রক্ষা করে।

স্তোত্র: দেবতার স্তব ও প্রশস্তি

১. বিষ্ণু সহস্রনাম
  • হাজার নামে বিষ্ণুর স্তব পাঠ করলে পাপ নাশ হয়, মন শান্ত হয়।
২. গরুড় স্তোত্র
  • সাপদংশন, বিষ বা দুষ্ট আত্মার আক্রমণে বিশেষভাবে কার্যকর।
৩. নারায়ণ কবচ স্তোত্র
এটি পাঠ করলে মানুষের দেহে অদৃশ্য এক রক্ষাকবচ তৈরি হয়।
“যে নারায়ণ কবচ ধারণ করে, সে শত্রু, রাক্ষস ও অশুভ শক্তির কাছে অজেয় হয়ে যায়।”

রক্ষাকবচ: আত্মার সুরক্ষার আবরণ

গরুড় পুরাণে কয়েকটি প্রধান রক্ষাকবচের উল্লেখ আছে

১. নারায়ণ কবচ

  • এটি একটি শক্তিশালী স্তোত্র।
  • মাথা থেকে পা পর্যন্ত ভগবান নারায়ণের নামে সুরক্ষা প্রার্থনা করা হয়।
উদাহরণ
  • মাথায় নারায়ণ
  • বুকে বিষ্ণু
  • হাতে চক্রধারী
  • পদতলে গরুড়বাহন
নারায়ণ কবচ যম, ভূতপ্রেত, দুষ্ট শক্তি, রোগ ও অকালমৃত্যুর বিরুদ্ধে শক্তিশালী ঢাল।

২. গরুড় কবচ
  • গরুড়ের নামে প্রার্থিত।
  • বিশেষ করে বিষ ও সাপদংশন থেকে রক্ষা করে।
৩. বিষ্ণু কবচ
  • ভগবান বিষ্ণুর সকল রূপ ও অবতারদের আহ্বান করে সুরক্ষা প্রার্থনা।
  • যোদ্ধা, রাজা ও ভক্তরা এটি পাঠ করে যুদ্ধ ও বিপদের সময়।

ভগবান বিষ্ণুর নাম, স্তোত্র ও কৃপাই মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ রক্ষাকবচ।


পরবর্তী পর্ব দেখতে এখানে ক্লিক করুন


Post a Comment

0 Comments