পর্ব ১৩
শ্রীকৃষ্ণ অবতার অসুর বিনাশ ও ধর্ম প্রতিষ্ঠা
বিষ্ণুর দশ অবতারের মধ্যে অন্যতম মহিমান্বিত অবতার হলেন শ্রীকৃষ্ণ। তিনি দ্বাপর যুগে পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়ে ধর্ম রক্ষা, অসুর বিনাশ এবং ভক্তদের অভয় প্রদান করেন। তাঁর লীলা, কাহিনী, প্রেম ও উপদেশ শুধু মহাভারত বা ভাগবত পুরাণেই নয়, বিষ্ণু পুরাণেও বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে।
এই পর্বে আমরা শ্রীকৃষ্ণের জন্ম, বাল্যলীলা, অসুর বিনাশ, কংস বধ, মহাভারতের যুদ্ধ এবং গীতা প্রদানের কাহিনী তুলে ধরবো।
শ্রীকৃষ্ণের জন্ম
মথুরার অন্ধকার কারাগারে মহারাজ বসুদেব ও দেবকীর গর্ভে জন্ম নেন শ্রীকৃষ্ণ। কংস, যিনি ছিল তাঁর মামা, দেবকীর অষ্টম সন্তান তাঁকে হত্যা করবে বলে ভয় পেয়েছিল। তাই তিনি দেবকীর সমস্ত সন্তানকে হত্যা করেন। কিন্তু বিষ্ণুর ইচ্ছায় অষ্টম সন্তান অর্থাৎ শ্রীকৃষ্ণ অলৌকিকভাবে জন্ম নেন।
বসুদেব শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে যান গোকুলে, নন্দ-যশোদার কাছে। সেখানেই তিনি বড় হন।
গোপাল লীলা ও অসুর বিনাশ
শৈশব থেকেই শ্রীকৃষ্ণ অলৌকিক লীলা প্রকাশ করেন।
- পুতনা দমন: দানবী পুতনা দুধ খাওয়ানোর ছলে বিষ খাইয়ে তাঁকে হত্যা করতে আসে। কৃষ্ণ তার প্রাণ হরণ করেন।
- শকটাসুর বধ: দোলনায় শোয়া অবস্থায় পা দিয়ে শকটাসুরকে ধ্বংস করেন।
- ত্রিনাবর্ত বধ: ঝড়ের দানব ত্রিনাবর্তকে বধ করেন।
- কালীয় নাগ দমন: যমুনার কালীয় সাপকে দমন করে নদীকে পরিশুদ্ধ করেন।
- গোপাল লীলা: গোপাল বন্ধুদের সাথে দুধ, দই, মাখন চুরি করে আনন্দ করেন। তাঁর লীলায় গোরা-বালকেরা মুগ্ধ হয়ে থাকত।
গোবর্ধন লীলা
ইন্দ্রদেবকে বাদ দিয়ে কৃষ্ণ গোপালদের বলেন গোবর্ধন পর্বতের পূজা করতে। ক্রুদ্ধ ইন্দ্র প্রবল বর্ষণ করলে কৃষ্ণ তাঁর ক্ষুদ্র অঙ্গুলিতে গোবর্ধন পর্বত তুলে সাতদিন গ্রাম রক্ষা করেন। এর পর ইন্দ্র কৃষ্ণের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
কংস বধ
কৃষ্ণ ও বলরাম বড় হলে মথুরায় আসেন। কংস নানা ষড়যন্ত্র করলেও কৃষ্ণ তাঁকে রণক্ষেত্রে বধ করেন। এভাবেই শেষ হয় অন্যায়ের শাসন।
মহাভারতে ভূমিকা
কৃষ্ণ কেবল কংস বধকারী নন, তিনি মহাভারতের কেন্দ্রবিন্দু।
- কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে তিনি অর্জুনের সারথি হন।
- যুদ্ধক্ষেত্রে কৃষ্ণ ভগবদ্গীতা প্রদান করেন, যা মানব জীবনের জন্য অমূল্য দিকনির্দেশ।
- তিনি পাণ্ডবদের ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য সহায়তা করেন।
শ্রীকৃষ্ণ অবতারের তাৎপর্য
-
অন্যায় বিনাশ: কংস, শিসুপাল, জরাসন্ধ প্রমুখ অসুরের বিনাশ।
-
ভক্তরক্ষা: দ্রৌপদীকে অপমান থেকে রক্ষা, পাণ্ডবদের পাশে থাকা।
-
গোপাল লীলা: প্রেম, ভক্তি ও আনন্দের প্রতীক।
-
গীতা প্রদানের শিক্ষা: কর্ম, জ্ঞান, ভক্তি ও ন্যায়ের সারমর্ম।
শ্রীকৃষ্ণ অবতার কেবল এক পৌরাণিক কাহিনী নয়, বরং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এক মহাশিক্ষা। বিষ্ণু পুরাণে তাঁর জীবন ও লীলা স্পষ্ট করে দেয়, যখন অন্যায় প্রবল হয়, তখন ভগবান স্বয়ং আবির্ভূত হয়ে ভক্তদের রক্ষা করেন এবং ধর্ম প্রতিষ্ঠা করেন।
পরবর্তী পর্বে আমরা আলোচনা করবো – বুদ্ধ অবতার (অহিংসা ও জ্ঞানের বার্তা)।
পরবর্তী পর্ব দেখতে এখানে ক্লিক করুন


0 Comments