"শ্রীশ্রী রাই রসরাজ লীলামৃত”
মধ্য লীলা
মঙ্গলাচরণ
জয় জয় রাইচাঁদ জয় গোরাচাঁদ, জয় জয় রসরাজ যিনি হরিচাঁদ।
জয় জয় গুরুচাঁদ করুণাবতার, যাঁর আশীর্বাদে হয় রাই অবতার।
জয় জয় শ্রীচুবন জয় শ্রীঘাগরী, যাঁহাদের হতে পাই পারের কাণ্ডারী।
জয় জয় ভাগ্যবতী দেবী বিন্দুপ্রিয়া, লক্ষ্মী বিষ্ণুপ্রিয়া মিলি দোঁহে এক হিয়া।
জয় জয় মহানন্দ জয় শ্রীগোলক, মানবে পাইল যাহে প্রেমের আলোক।
জয় জয় রাই ভক্ত দান প্রেমানন্দ, প্রণমী ঠাকুর পদে শ্রীজগদানন্দ।
জয় জয় ভগবান সর্ব অবতার, পূর্ণব্রহ্ম রাইরূপে করহ উদ্ধার।
সাধু গুরু বৈষ্ণবেরে করি দণ্ডবৎ, কৃপা করি পাপ নাশি কর মোরে সৎ।
সাধু সেবা লীলা
জয় জয় রাইচাঁদ পতীত পাবন, তোমার মহিমা কথা না যায় কথন।
জয় জয় মহাপ্রভু বিপদ ভঞ্জন, ইচ্ছামাত্রে কর তুমি অসাধ্য সাধন।
জয় জয় ভক্তগণ মহা শক্তিধর, তুমি আদি তুমি অন্ত করুণা সাগর।
নানারূপে লীলা কর লয়ে ভক্তগণ,
অশেষ তোমার গুণ না যায় বর্ণন। পাঁচুড়িয়া আশ্রমেতে ঠাকুর আছেন,
ভক্তগণ পাশে থাকি আনন্দে ভাসেন। সকাল সন্ধ্যায় হয় কীর্তন মধুর,
শ্রোতা ভক্ত সবে পায় আনন্দ প্রচুর। একদিন ভোর বেলা এক সাধুজন,
বহুদূর হতে এল করিতে দর্শন। ঠাকুর বলেন তাঁরে, 'সাধু মহাশয়,
ভোর বেলা এক সঙ্গে জলযোগ হয়।'
সাধু বলে, "অম্লান্ত কভু নাহি খাই",
ঠাকুর বলেন তাঁরে, 'অসুবিধা নাই।' নদী কিংবা পুকুরেতে যথা মনে লয়,
স্নান করে জলযোগ কর মহাশয়।
ঠাকুরের বাক্য সাধু না মানি পারে না, স্নান করিতে গেল আনন্দিত মনা।
এদিকেতে আশ্রমেতে ছিল যতজন,
চিন্তিত হইল সবে অভাব কারণ।
জলযোগে কিবা দিবে কি হবে উপায়? বাজারেতে লোক কেন প্রভু না পাঠায়?
ঠাকুর আদেশ দিল কোন ভক্তজনে,
"দুই জোড়া পাতা কাট খাব দুইজনে।
দুইখানা পিড়ি আন জল এক ঘটি, সেবায় বসিব মোরা কর পরিপাটি।"
ঠাকুরের আজ্ঞাশুনি প্রস্তুত হইল, সাধুকে লইয়া প্রভু সেবায় বসিল।
কোথা হতে একজন এমন সময়,
মাথায় লইয়া ধামা হইল উদয়।
পুলকে মস্তক হতে ধামা নামাইল, ঠাকুরের পদে পড়ি কাঁদিতে লাগিল।
বলিছে, "ঠাকুর মোর কিবা ধন আছে?
জানহ সকল তুমি কি বলিব মিছে?"
কত যে আনন্দ হয় কর্তা সন্দর্শনে, ভুক্ত ভোগী বিনা তাহা বুঝিবে কেমনে?
"চিড়া-মুড়ি দধি-খই মিষ্ট কিছু আর, মনের বাসনা মম সেবা করাবার।"
কে বুঝে ঈশ্বর লীলা গভীর রহস্য, মনের মানুষ হয়ে পূরায় অবশ্য।
ঠাকুর বলিল তাঁরে, তুমি নিজজন,
নিশ্চয় হইবে পূর্ণ যাহা আকিঞ্চন।
পূর্ব হতে বসি আছি সাধুর সহিতে, তাঁর সহ তব ভোগ্য গ্রহণ করিতে।
এইরূপ কত লীলা আশ্চর্য মধুর,
করিয়াছে রাইচাঁদ প্রেমের ঠাকুর।
রাই রসরাজ লীলা অমৃত সমান,
ভক্তগণ বলে ইহা শুনে পুণ্যবান।
রোগ চিকিৎসা লীলা
জয় জয় মহাপ্রভু রসরাজ রাই, যিনি ছাড়া ত্রিজগতে বন্ধু কেহ নাই।
যাঁহার করুণা হলে পঙ্গু লঙ্ঘে গিরি, মুক ভাষে রোগী সুস্থ তাঁরে নমস্কারি।
তাঁহার ইচ্ছায় হয় জগৎ সৃজন, সর্বত্র রয়েছে ঐ কারণের কারণ।
গরল অমৃত হয় দুষমন বন্ধু, অধর্মে ধর্মের ফল পেলে কৃপা বিন্দু।
কি যে তিনি পারেন না আর কিবা পারে?
ভক্ত ছাড়া কেহ তাহা বুঝিবারে নারে।
জয় জয় রাই ভক্ত দেহ পদ ছায়া, তোমাদের কৃপা হলে দূরে যাবে মায়া।
বাশুড়িয়া ভবনেতে ঠাকুর আছেন, ইচ্ছা হ'ল ভক্ত সঙ্গে হিরণ যাবেন।
অন্তরঙ্গ ছিল সঙ্গে আট দশ জন, রঙ্গেতে নৌকায় উঠি করিল গমন।
পথি মধ্যে চাপরাল যাইতে সময়, এক ব্যক্তি দৌড়ে এসে ঠাকুরে জানায়।
'বড়ই সঙ্কটে আছি বাঁচিব কেমনে? বহুদূর হতে খুঁজে এসেছি এখানে।'
পুত্র মোর শয্যাশায়ী জ্বরের জ্বালায়, দয়া করে বল কর্তা কি করি উপায়?
একমাত্র পুত্র ওই আর কেহ নাই, অধমে তারণ কর প্রার্থনা জানাই।
ঠাকুর বলেন, "শুন ওহে ভক্তগণ, ভোগের ভাগ কি লবে বল সর্বজন?
সবে মিলি মোরা যদি কিছু কিছু লই,
নিশ্চয় বাঁচিবে বেটা আর কিবা কই।"
নৌকা বাহিতে ছিল যে ভক্ত তখন, অস্বীকার করে সেই প্রভুর বচন। ভক্তিভাবে বলে সেই ঠাকুরের ঠাঁই,
"ভাগ নিলে কেমনে প্রভু নৌকা চালাই?"
কুরের কথা যবে সবে মেনে নিল, জ্বরের জ্বালায় সবে কাঁপিতে লাগিল।
এদিকেতে পুত্র তার নিরাময় হয়, জ্বরের বিকার জ্বালা কিছু নাহি রয়।
হিরণ পৌঁছার পূর্বে ভক্তগণ সুস্থ, দেখিয়া বিস্ময় মানে যাহারা তটস্থ।
এইরূপে কত লীলা করেন ঠাকুর, করুণার ফল্গুধারা কতই মধুর।
রসরাজ লীলামৃত অদ্ভুত মাধুরী, শ্রবণে আনন্দ বাড়ে ভবভয় তরি।
ভক্তবাঞ্ছা পূরণ লীলা
জয় জয় রাইচাঁদ জগৎ জীবন, সর্বভূতে যাঁর স্থিতি জয় ভক্তগণ।
গীতায় রয়েছে তব প্রতিজ্ঞার কথা, যুগে যুগে কভু নাহি হইবে অন্যথা।
যৈছে তোমারে ভজে তৈছে কর করুণা, যার তরে ভক্তগণ না করে ভাবনা।
এইরূপ কত লীলা কত স্থানে হয়,
সকল বর্ণিতে কারো সাধ্যে না কুলায়। বুদ্ধিমন্ত বনিতা ছিল বর্ণি গ্রামেতে,
রাজবংশী পরিচিতা ছিল সে জাতিতে।
বড়ই পবিত্রচিতা ভক্তি পরায়না,
ঠাকুরের চিন্তা ভিন্ন আনতো ভাবেনা।
একদিন শোন সবে কি মধুর লীলা,
ঠাকুর খেলিল এক ভাবময় খেলা।
পান্সী নৌকায় প্রভু পাঁচুড়িয়া হতে,
চলিতে ছিলেন তিনি বাশুড়িয়া পথে।
বর্ণির বাওড়ে এসে হ'ল উপনীত, বলিলেন, "কোথা যাব কি হয় উচিত?
পান্সী লাগাও ত্বরা বর্ণির কূলেতে, নামিয়া যাইতে হবে তাই ভাবি চিতে।"
ব্যস্ত হইয়া ঠাকুর জামা গায় দিল, ১৯ কূলেতে ভিরালে নৌকা লাফায়ে পড়িল।
প্রহরেক রাত্রিকালে এরূপ ঘটিল, সঙ্গে সঙ্গে ভক্তগণ দৌড়িয়া চলিল।
উপনীত হ'ল গিয়া বুদ্ধির ঘরেতে, নাম গানে মেয়েলোকে আছে তথা মেতে।
ঠাকুরের ভোগ লাগি নৈবেদ্য সাজায়ে,
ছয় সাত জন কাঁদে আকুল হইয়ে। আসরে গাহিছে সবে "রাই আয় আয়, তুমি না আসিলে প্রভু এবে প্রাণ যায়।" চক্ষের জলেতে তাঁরা দিচ্ছে গড়াগড়ি,
মরি কী! সুন্দর দৃশ্য যাই বলিহারি। দুয়ারে দাঁড়াল প্রভু যাইয়া যখন,
প্রাণধনে হেরি গেল মূর্ছা কতজন। আর দুই তিনজন দৌড়ায়ে আসিয়া,
জড়াইয়া ধরি কাঁদে "হা নাথ" বলিয়া।
এইরূপে কেটে গেল প্রহরেক কাল,
ঠাকুরে পাইয়া সবে আনন্দে বিহ্বল। "জয় রাই" বলি তাঁরা হরি ধ্বনি দিল,
ঠাকুরের প্রীতি সবে মেগে মেগে নিল। ঠাকুর সেবার দ্রব্য যত কিছু ছিল,
চিড়া-মুড়ি দই-খই মিশ্রিত করিল। ঠাকুর করিল সেবা আনন্দিত মনে,
প্রসাদ পাইল পরে যত ভক্তগণে। ঠাকুরের মহোৎসবে অন্য একদিন,
করেছিল এই নারী হইয়া দীপহীন।
মহোৎসব হবে বর্ণি দিন ধার্য হ'ল, তিন চার শত ভক্ত আসিয়া জুটিল।
অস্তাচলে গেল রবি রাত্রি আসিল, কাল বৈশাখীর ঘটা আরম্ভ হইল।
ঠাকুরের প্রিয় ভক্ত ঘোষ মহাশয়, তৎকালে সেই ভক্ত ওই বাড়ি রয়।
নকুল ভাবিছে মনে অন্য বাড়ি যাই, এ বাড়ির ঘরে শক্ত খুঁটিওতো নাই।
ঝড় আরম্ভ হইলে রক্ষা নাহি পাব, সেইজন্য এই বাড়ি এখনি ছাড়িব।
ঠাকুর ছিলেন ঘরে এতক্ষণ বসি, মেঘের শুনিয়া ডাক বাহিরেতে আসি।
বলিছে সকলে ডাকি, "শুন ভক্তগণ, কীর্তন করহ সবে হয়ে এক মন।"
ঠাকুরের আদেশেতে নাম আরম্ভিল, অন্য দিকে আর তারা দৃষ্টি নাহি দিল।
আনন্দের ঢেউ ওঠে কীর্তন মাঝার, "জয় রাই" ধ্বনিতে সবে ছাড়ে হুঙ্কার।
কিছুক্ষণ এইভাবে চলিবার পর, মেঘ আর নাহি দেখে মাথার উপর।
নকুল ঘোষের ইচ্ছা অন্য বাড়ি যেতে, এতচিন্তি নামিল সে বাড়ির নীচেতে।
বাড়ির নীচেতে ছিল চলিবার পথ, জল মধ্যে পা ডুবিল দেখে অকস্মাৎ।
ভয়ঙ্কর ঝড় বৃষ্টি হইয়া গিয়াছে, মাত্র সেই বাড়িখানি বাদ পড়িয়াছে।
এইরূপ অসম্ভব সম্ভব করে যে, পূর্ণব্রহ্ম রাই বিনা আর পারিবে কে? যেই হরি সেই রাই ভজ দৃঢ় করি,
দয়া করি আসি ভবে পারের কাণ্ডারী।
সংসার সমুদ্র মাঝে ডুবে জীবগণ, হাবুডাবু খেয়ে তারা হতেছে পতন।
ঐদিন মহোৎসবে আরো হয় লীলা, দীপ ছাড়া আলোকিত কেবা আলো দিলা।
এমনি অচৈতন্য সবে হইয়াছিল, সম্বিৎ পেয়েও তারা বুঝিতে নারিল।
জয় জয় বুদ্ধিমন্ত জয় ভক্তগণ,
সাধ্বী সতী পত্নী যার ভক্ত সুজন। তাঁহার ভাগ্যের সীমা কে বলিতে পারে?
স্বয়ং প্রভু অবস্থান করে যাঁর ঘরে। রাই রসরাজ প্রীতি দেহ হরিধ্বনি,
রাধাকৃষ্ণ প্রেমরস যাহাতে বাখানি। রাই রসরাজ লীলা অতীব রসাল,
ভব ব্যাধি দূরে যায় ঘুচিবে জঞ্জাল।
ভক্তের বোঝা বহন লীলা
জয় জয় রাইচাঁদ ভক্তের জীবন, তোমা ছাড়া অন্য জনে না করে ভজন। যে জন তোমার হয় তুমি তার হও,
যুগে যুগে ভক্তবাঞ্ছা তুমিই পূরাও। সনাতনের বাড়ি ছিল সিলনা গাঁয়,
অতীব পরম ভক্ত কত গুণ তায়।
দেখাব কেমনে প্রভু ভক্ত বোঝা বয়,
সনাতন গিয়াছিল সিংখালি গাঁয়। নিশি হাতি প্রিয় ভক্ত তাঁর বাড়ি যায়,
ভাবের বাতাসে সদা ঘুরিয়া বেড়ায়। রাত্রি দিন সর্বক্ষণ কৃষ্ণগুণ গায়,
সাধু সঙ্গে অতি রঙ্গে দিন কেটে যায়।
কদিন দেখে চিল পড়ে শূন্য হতে, নিকটেতে যায় সাধু পক্ষিকে দেখিতে।
গিয়া দেখে পায়ে বাঁধা পত্র একখান, বাঁধন খুলিয়া চিঠি নিল ততক্ষণ।
চিঠি পড়াইয়া শুনে জানিতে পরিল, খাজনার দায়ে জমি নিলামে উঠিল।
মাদারীপুরেতে এই মোকদ্দমা হবে, সেজন্য দেছে সমন ভাগীদের সবে।
আস্তে আস্তে সনাতন রওনা হইল, ঠাকুরের দরশনে আশ্রমে পৌছিল।
ঠাকুর বলিছে, 'তুমি হাজিরা দাও, বিলম্ব করোনা আর ভাল যদি চাও?'
ঠাকুরে প্রণাম করি ভক্ত চলি যায়, উদয় হইল গিয়া দুর্গাপুর গাঁয়।
কেষ্ট গোসাঁই ছিলেন সেখানে তখন, ডাক দিয়া সনাতনে বলিছে বচন।
"দুইটি ইলিশ মাছ আনিবিরে তুই, ঠাকুর সেবার জন্য বলিদিনু মুই।"
সনাতন পদধূলি লইয়া মাথায়, শিরোধার্য মনে করি যাত্রা করি যায়।
মাদারীপুরের পাশে অপেক্ষা করিল, পরদিন ভোর বেলা উকিলে ভেটিল।
উকিলের কাছে দিল নোটিশ যখন,
খরচের টাকা তিনি করেন গ্রহণ। বলিল, "আসিবে তুমি দশটা বাজিলে,
হাজিরা দিলাম এই জানিয়া রাখিলে।"
এদিকেতে সনাতন মাছ কিনিবারে, সন্ধান করিয়া ফিরে নদীর কিনারে।
মৎস্য কিনিতে তাঁর বারটা বাজিল, মামলার কথা তাঁর মনে না রহিল।
হঠাৎ পড়িল মনে কাচারির বেলা,
তাড়াতাড়ি আসি কিছু কিনিয়া খাইলা।
মুহুরির কাছে গেল দুইটা বাজিলে, মামলার কথা তার কাছে জিজ্ঞাসিলে। মুহুরি বলিছে, 'বেটা কি কহিব আর?
মামলার জয়লাভ হয়েছে তোমার।' "একঘন্টা কালব্যাপী দাঁড়াইয়া থাকি,
কত কথা বল্লে তুমি কিছু বোঝ নাকি। মুহুরির কথা শুনি অন্তরে আনন্দ,
ঠাকুর করিছে ইহা নাহি কোন সন্ধ। ধরিয়া আমার মূর্তি হাজিরা দিয়াছে,
এমন বান্ধব ছাড়ি আমি ঘুরি মিছে। সনাতন ফিরে এল মৎস্য লইয়া,
কেষ্ট গোসাঁয়ের কাছে উপনীত গিয়া। সনাতন বলে, 'প্রভু এই মাছ লও',
গোসাঁই বলিছে, "তুমি কিবা কথা কও? মৎস্য আনিতে বলি ঠাকুরের তরে,
আমি না রাখিব মাছ দেও নিয়া তাঁরে।" সনাতন বলে, "তাহা কিছুতে না হবে,
অবশ্য রাখিবে আগে তবে তিনি লবে।" গোসাঁই রাখিল মাছ দুইখানা কেটে,
বাদ বাকী দিল এসে দ্রুত পদে হেঁটে।
ঠাকুরের কাছে গিয়া পদধূলি নিল,
থরথর করি কাঁপে হেতু না বুঝিল। ঠাকুর বলিছে, 'তোরে আর কিবা কই?
তোর জন্য আমি কত দাঁড়াইয়া রই। একদিকে গেলে আর দিক নাহি থাকে,
দিশেহারা হয়ে থাক কি বলিব তোকে? ঠাকুরের কথা শুনে কাঁদে সনাতন,
অপার্থিব প্রেমলভি আনন্দে মগন।
আর এক কাহিনী যা' হয়েছে রটনা, শুনিয়া সকলে করে তত্ত্ব আলোচনা।
সামান্য মানুষ নয় রাইচাঁদ কভু, মানুষের বেশে এসে অবতারে বিভু।
সনাতন মণ্ডলের পুত্র কৃষ্ণধন, একদিন শুন তার অপূর্ব ঘটন।
শয়নেতে ছিল কেষ্ট ঘরের মেঝেতে, ভাবিল কলেরা এল বাঁচিব কি মতে?
মরিতেছে বহুলোক চিন্তিত সবাই, বাঁচিবার কি উপায় ভাবিছে সদাই।
হোগলার দুয়ার ছিল উপরেতে ফাঁক, চাহিয়া রয়েছে কেষ্ট অন্তরে আটক।
দেখিল বিকট মূর্তি দরজার পর, ফাঁক দিয়া দেখি মূর্তি কাঁপে থর থর।
বিষম মূরতি হেরি ভয়ে কৃষ্ণধন, "হা রাই, হা রাই” বলি মুদিল নয়ন।
মূরতি বলিল, তুই কি নাম বলিলি, ইচ্ছা ছিল ধরে নিব তাতে বাধা দিলি।
ওনাম করিলে তারে ধরিতে না পারি, এইবার এ নামেতে গেলি তুই তরি।
এইরূপ বার বার কত লীলা হয়, লিপিবদ্ধ করিবার সাধ্য কভু নয়।
রাই রসরাজ চিন্তা অন্তরেতে যাঁর, অনিত্য সংসার দুঃখ কি করিবে তাঁর।
রাই ভজ রাই চিন্ত রাই কর সার, অনায়াসে ভব নদী হয়ে যাবে পার।
সিলনা গ্রামেতে ছিল বহু ভক্তগণ, ঠাকুর বলিছে সবে করি সম্বোধন।
"শুন শুন ভক্তগণ শুভপ্রদ বাণী, পৌষ মাসে উষা নামে মানব কল্যাণী।
ভক্তি ভরে যেইজন করয়ে কীর্তন, কলেরার ভয় তার নহে কদাচন।”
সেই হতে পৌষ মাসে সিলনা গ্রামেতে, প্রেমানন্দে ভক্তগণ কীর্তনেতে মাতে।
তাঁহাদের দেখাদেখি চারিদিকে হয়, অবিশ্বাসী নাস্তিকেও করেছে প্রত্যয়।
এ পর্যন্ত কলেরার কথা সাঙ্গ হ'ল, প্রেমানন্দে মেতে সবে রাই রাই বল।
রাই রসরাজ লীলা অমৃত সমান, সাধুগণ কহে ইহা শোনে পুণ্যবান
পরবর্তী পর্ব দেখতে এখানে ক্লিক করুন


0 Comments