পর্ব ১১: উগ্রসেনের রাজ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও কৃষ্ণের গুরুকুল যাত্রা
কংসের মৃত্যুর পর মথুরায় শুরু হয় এক নতুন যুগ—ন্যায় ও ধর্মের যুগ। শ্রীকৃষ্ণ যে শুধু অসুরবিনাশী নন, বরং এক পরিপূর্ণ রাজনীতিক, সমাজসংস্কারক ও দায়িত্ববান পুরুষ, তা এই পর্বে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এখানে দেখা যায়—কৃষ্ণ কংসকে বধ করলেও সিংহাসন গ্রহণ করেন না, বরং যথার্থ শাসক উগ্রসেনকে সিংহাসনে বসিয়ে দেন এবং নিজে গুরুকুলে পাঠ গ্রহণ করতে যান।
উগ্রসেনের পুনঃসিংহাসনে আরোহন
কংস ছিলেন উগ্রসেনেরই পুত্র, কিন্তু তিনি পিতাকে জেলবন্দি করে রাজ্য দখল করেছিলেন। কংসের মৃত্যুর পর কৃষ্ণ নিজ হাতে উগ্রসেনকে কারাগার থেকে মুক্ত করে পুনরায় রাজ্য পরিচালনার দায়িত্ব দেন।
এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কৃষ্ণ বোঝালেন—রাজ্য চালানোর জন্য যোগ্যতা ও ন্যায়পরায়ণতা জরুরি, ক্ষমতা নয়।
মথুরাবাসী আনন্দে ফেটে পড়ে। তাঁরা বহু বছর পরে শান্তিপূর্ণ শাসনের আশা পান।
কৃষ্ণ ও বলরামের গুরুকুল যাত্রা
ধর্মের পথে প্রতিষ্ঠা করেও কৃষ্ণ নিজেকে পরিপূর্ণ করতে চান জ্ঞান ও শাস্ত্র অধ্যয়নের মাধ্যমে। তাই তিনি ও বলরাম যান গুরুকুলে, যাঁর গুরু ছিলেন মুনি সান্দীপনি।
গুরুকুলে তারা থাকেন সাধারণ ছাত্রের মতো—নাম, যশ, ঈশ্বরত্ব সব ভুলে কেবল জ্ঞান অর্জনে আত্মনিয়োগ করেন।
এখানে তাঁরা শেখেন:
- বেদ, উপনিষদ, ধনুর্বিদ্যা
- রাজনীতি, যুদ্ধকৌশল
- সংস্কৃত, নীতি ও ধর্মনীতি
- আত্মজ্ঞান ও জীবনের উদ্দেশ্য
গুরুদক্ষিণা – আত্মত্যাগের নিদর্শন
গুরুকুলে পাঠশেষে গুরুদক্ষিণা দেওয়ার সময় কৃষ্ণ জানতে পারেন—গুরুপত্নীর পুত্র সমুদ্রগর্ভে হারিয়ে গেছে। কৃষ্ণ ও বলরাম তখন যাত্রা করেন সমুদ্রের গভীরে এবং যমলোক পর্যন্ত গিয়ে সেই সন্তানকে ফিরিয়ে আনেন।
এই ঘটনার মাধ্যমে কৃষ্ণ দেখান—শিক্ষা শুধু মুখস্থ বিদ্যা নয়, বরং তা জীবনবোধ, কর্তব্য ও আত্মত্যাগ।
পরবর্তী পর্বে আমরা জানব -কংসের দুই স্ত্রী ও জরাসন্ধের প্রতিশোধ যাত্রা
পরবর্তী পর্ব দেখতে এখানে ক্লিক করুন-জয় শ্রী কৃষ্ণ


0 Comments