পর্ব ৩১: ভীষ্মের উপদেশ ও মহাপ্রয়াণ – শরশয্যায় ধর্মজ্ঞান ও বিদায়বেলা
এই অবস্থা যেন ছিল ধর্ম ও জ্ঞানের চূড়ান্ত মঞ্চ।
শ্রীকৃষ্ণের উপস্থিতিতে ভীষ্ম পিতামহ দিলেন এমন কিছু উপদেশ যা আজও মানবসমাজের জন্য অনন্ত প্রেরণা।
ভীষ্মের ইচ্ছামৃত্যু:
ভীষ্ম ছিলেন ইচ্ছামৃত্যুর অধিকারী, অর্থাৎ তিনি চাইলে যখন ইচ্ছা তখনই মৃত্যুবরণ করতে পারতেন।
তিনি সিদ্ধান্ত নেন, উত্তরায়ণ কালে সূর্য উত্তর দিকে যাত্রা করলে তবেই তিনি পরলোক গমন করবেন।
এই সিদ্ধান্ত তার গভীর আধ্যাত্মিক জ্ঞানেরই বহিঃপ্রকাশ।
ভীষ্মের উপদেশ:
যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর পাণ্ডবরা রাজ্য পরিচালনায় নানা দিক নিয়ে দিশাহীন হয়ে পড়ে।
তখন কৃষ্ণ বলেন,
“ভীষ্ম এখনও জীবিত, তাঁর কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করো।”
যুধিষ্ঠিরসহ পাণ্ডবরা তখন ভীষ্মের শরশয্যার সামনে গিয়ে বসেন।
ভীষ্ম দিতে থাকেন মহামূল্যবান উপদেশ:
১. 📜 রাজধর্ম:
- শাসকের প্রধান কর্তব্য ন্যায়ের পথে চলা।
- প্রজার সেবা করাই রাজার আসল ধর্ম।
- শোককে জয় না করলে জীবনের অর্থ থাকে না।
- আত্মা অমর, মৃত্যু শুধু দেহান্তর।
- সত্য, করুণা, সংযম ও ক্ষমা—এই গুণে মানুষ পরিপূর্ণ হয়।
শ্রীকৃষ্ণের ভূমিকা:
শ্রীকৃষ্ণ ভীষ্মের প্রতিটি কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেন।
তিনি বলেন,
“আজ যুধিষ্ঠির শুধু রাজা নন, সত্যিকার অর্থে তিনি এক জ্ঞানীও হলেন।”
ভীষ্মের জ্ঞান ছিল কৃষ্ণের কৌশলেরই পরিপূরক।
মহাপ্রয়াণের মুহূর্ত:
অবশেষে আসে সেই পবিত্র সময় –
উত্তরায়ণ সূর্যোদয়, এবং ভীষ্ম বলেন,
“এখন সময় এসেছে… বিদায়
তাঁর মুখে বিষ্ণুর নাম, মনে শান্তি, আর হৃদয়ে সঞ্জীবিত এক মহাধর্মের দীপ্তি।
ভীষ্ম পিতামহ ত্যাগ করেন দেহ – কিন্তু রেখে যান এক অমর উত্তরাধিকার।
আধ্যাত্মিক শিক্ষা:
- জ্ঞান ও ধর্মের যোগে জীবনের প্রকৃত অর্থ ধরা দেয়।
- মৃত্যু নয়, জীবন কিভাবে কাটানো হলো সেটাই আসল।
- ভীষ্মের শিক্ষা আজও রাজনীতি, ধর্ম ও মানবতাবোধে অপরিসীম গুরুত্বপূর্ণ।


0 Comments