ভীষ্ম পতন: শ্রীকৃষ্ণের কৌশলে শেষ হলো মহাযোদ্ধার অধ্যায়

 


পর্ব ৩০: ভীষ্ম পতন – কৃষ্ণের কৌশল ও ধর্মরক্ষার এক অপূর্ব অধ্যায়

ভীষ্ম—যিনি গঙ্গাপুত্র, যাঁর প্রতিজ্ঞা ছিল কঠিনতম, যিনি কৌরবদের সেনাপতি হয়ে পাণ্ডবদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছিলেন।
তাঁর পতন ছিল অবশ্যম্ভাবী, কিন্তু সেটি কীভাবে হবে—তা নিয়েই ছিল রহস্য।

এখানেই ভূমিকা নেন শ্রীকৃষ্ণ
তাঁর কৌশল ও জ্ঞান দিয়েই ইতিহাস রচনা হয়।

কুরুক্ষেত্রের নবম দিন

ভীষ্ম পাণ্ডবদের বিরুদ্ধে এতটাই শক্তিশালীভাবে লড়ছিলেন যে, তাঁকে থামানো না গেলে পাণ্ডবদের পরাজয় ছিল সময়ের অপেক্ষা।

তখন কৃষ্ণ বলেন—

“ভীষ্ম কখনো নারীর বিরুদ্ধে অস্ত্র তোলে না। তাই তাকে থামাতে হবে একজন নারীর আড়ালে থেকে।”

শিখণ্ডীর ভূমিকা

শিখণ্ডী ছিলেন দ্রুপদের কন্যা, পরে যিনি রূপান্তরিত হন পুরুষে।
ভীষ্ম তাঁকে "নারীস্বরূপ" মনে করতেন, তাই তাঁর প্রতি অস্ত্র ধরবেন না বলে মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন না।

এই কৌশল কাজে লাগান কৃষ্ণ।

তিনি অর্জুনকে নির্দেশ দেন—

“তুমি শিখণ্ডীকে সামনে রেখে আক্রমণ করো, ভীষ্ম কোনো প্রতিরোধ করবে না।”

অর্জুনের আক্রমণ

অর্জুন শিখণ্ডীর আড়ালে থেকে ভীষ্মের দিকে অগণিত তীর ছোঁড়েন।
ভীষ্ম প্রতিরোধ করেন না, কারণ তিনি জানেন—
এটিই ভগবানের ইচ্ছা, ধর্মের পথে তাঁর পতন স্বেচ্ছায় স্বীকার করছেন।

শেষ পর্যন্ত ভীষ্ম শরশয্যায় লুটিয়ে পড়েন—
তাঁর দেহে অসংখ্য তীর বিঁধে রইল, কিন্তু মুখে শান্তির হাসি।

কৃষ্ণ ও ভীষ্মের সম্মান

ভীষ্ম পতনের পর কৃষ্ণ এগিয়ে যান।
তিনি ভীষ্মকে বলেন—

“তুমি নিজের ইচ্ছায় পতন স্বীকার করেছো, তুমি সত্যিকারের মহাজ্ঞানী ও ধর্মজ্ঞ।”

ভীষ্ম পতনের মাধ্যমে মহাভারতের যুদ্ধ একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করে।

আধ্যাত্মিক শিক্ষা:

প্রতিজ্ঞা ও কৌশলের দ্বন্দ্বে জিতেছিল ধর্ম।

ভীষ্ম পতন কোনো পরাজয় নয়, বরং এক সজ্ঞানে বরণ করা ত্যাগ।

কৃষ্ণের কৌশল কখনও নিছক চাল নয়, বরং মহত্তম লক্ষ্য পূরণের মাধ্যম।


পরবর্তী পর্ব দেখতে এখানে ক্লিক করুন 

Post a Comment

0 Comments