দামোদর লীলা: মা যশোদার দড়িতে বাঁধা শ্রীকৃষ্ণ

 


পর্ব ৮: দামোদর লীলা : মা যশোদার দড়িতে বাঁধা শ্রীকৃষ্ণ

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের লীলাগুলোর মধ্যে একটি অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী ঘটনা হলো “দামোদর লীলা”। এই লীলায় আমরা দেখি ঈশ্বরের সেই দিক—যেখানে তিনি ভালোবাসা ও ভক্তির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পড়েন। শ্রীকৃষ্ণ যে শুধু একজন দেবতা নন, একজন আদর্শ সন্তান, সেটিও এই লীলায় প্রকাশ পায়।

 ঘটনার সূচনা:

একদিন সকালে মা যশোদা গাভীর দুধ দিয়ে মাখন বানাচ্ছিলেন। তিনি শ্রীকৃষ্ণকে দুধ খাওয়াচ্ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ দুধ ফুটে ওঠে, তাই যশোদা দুধ বাঁচাতে রান্নাঘরে যান। এদিকে ছোট্ট কৃষ্ণ দুধ না পেয়ে রেগে গিয়ে হাঁড়ি ভেঙে মাখন ছড়িয়ে দেয় এবং বানরদের খাওয়াতে শুরু করে।

যখন যশোদা ফিরে এসে এই অবস্থা দেখেন, তখন তিনি রেগে গিয়ে শ্রীকৃষ্ণকে ধরতে যান। শ্রীকৃষ্ণ ভয়ে দৌড় দেয়, মা যশোদা পিছনে দৌড়াতে থাকেন। অবশেষে যশোদা তাঁকে ধরে ফেলেন এবং শাস্তিস্বরূপ একটি দড়ি দিয়ে শ্রীকৃষ্ণকে একটি বড় মরীচবৃক্ষের সাথে বাঁধতে যান।

কিন্তু আশ্চর্য! মা যত দড়ি আনেন, ততই সেটি কিছুটা ছোট পড়ে যায়। বারবার চেষ্টা করেও দড়ি পুরো হয় না। তখন যশোদার মনে পড়ে, এই ছেলে সাধারণ ছেলে নয়—তিনি স্বয়ং পরমেশ্বর। কিন্তু যশোদার মাতৃস্নেহ ও ভক্তির কাছে ঈশ্বরও হার মানেন। শেষ পর্যন্ত শ্রীকৃষ্ণ নিজেই দড়ির দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে দেন এবং মা যশোদা তাঁকে গাছের সাথে বাঁধেন।

এই লীলাই পরিচিত “দামোদর লীলা” নামে। ‘দাম’ মানে দড়ি, আর ‘উদর’ মানে পেট—অর্থাৎ যিনি দড়ি দিয়ে পেটের চারপাশে বাঁধা ছিলেন।

দামোদর লীলার তাৎপর্য:

এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি মজার গল্প নয়, এর গভীরে রয়েছে ভক্তির এক অসীম বার্তা। শ্রীকৃষ্ণ তাঁর অসীম শক্তি থাকা সত্ত্বেও একজন মায়ের ভালোবাসার কাছে নিজেকে বেঁধে ফেলেন। এতে বোঝা যায়, ঈশ্বরকে জয় করার একমাত্র উপায় হলো ভক্তি

দামোদর লীলা থেকে আমরা শিখি:

  • ভালোবাসা ও ভক্তি দিয়ে ঈশ্বরকে ধরা যায়।
  • অহংকার দিয়ে নয়, সরলতায় পাওয়া যায় পরম স্নেহ।
  • একজন মা’র ভালোবাসা অসীম শক্তিশালী।
পরবর্তী পর্বে আমরা জানব-মথুরা যাত্রা – কৃষ্ণ ও বলরামের রাজসভায় পদার্পণ

পরবর্তী পর্ব দেখতে এখানে ক্লিক করুন-জয় শ্রী কৃষ্ণ

Post a Comment

0 Comments